ভালুকায় বিএনপি থেকে বাবা-ছেলে বহিষ্কার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৫১ এএম


ভালুকায় বিএনপি নেতা বাবা-ছেলে বহিষ্কার
ছবি: আরটিভি

ময়মনসিংহের ভালুকায় দলের ভেতরে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে ভালুকা উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খোকা মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি কর্মী তোফায়েল আহমেদ রানা। বহিষ্কৃতরা সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খোকা মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি কর্মী তোফায়েল আহমেদ রানার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ছেলের ছোড়া গুলিতে বাবাসহ দুইজন আহত হন। আহতরা হলেন—বাবা খোকা মিয়া (৬০) ও খোকন মিয়া (৩৮)। খোকা মিয়া হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি ওই এলাকার মৃত আলম মিয়ার ছেলে। খোকন একই এলাকার ফাইজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে খোকা মিয়া প্রচারণা চালান। তার ছেলে তোফায়েল আহমেদ রানা (৩৫) বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মুর্শেদ আলমের (হরিণ প্রতীক) পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বিজয়ী হন। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন দুপুরে জামিরদিয়া এলাকায় রানা তার ব্যক্তিগত অফিসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় খোকা মিয়া সেখানে গিয়ে ছেলেকে শাসন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে বাবাসহ খোকন মিয়াকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে খোকা মিয়ার পিঠ ও মাথায় গুলি লাগে।

তাকে রক্ষা করতে গেলে খোকন মিয়াও হামলার শিকার হন। এ সময় রানার অনুসারী নিজাম, নাহিদ, আল-আমিন, রিফাতসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন দা ও চাপাতি দিয়ে তাদের কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। পূর্বের ঘটনার জেরেই আজকের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সবাই চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission