চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টায় হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নারে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে লামিয়া খাতুন (১.৫) নামে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। তিনি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের মো. রনির মেয়ে।
স্বজনরা জানান, রাতে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে শিশুটিকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে হাম আইসোলেশন কর্নারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীরে জ্বর, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং বিভিন্ন স্থানে লালচে দাগসহ হামের একাধিক উপসর্গ ছিল। তবে পরীক্ষাগার নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত বলা সম্ভব নয়।
জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোসফিকুর রহমান বলেন, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আনার পর শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শুরু করার কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবারের সেই সক্ষমতা ছিল না।
হাম আইসোলেশন কর্নারে থাকা রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। এক কক্ষে অর্ধশতাধিক রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্সের সেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। সর্বশেষ এই শিশুর মৃত্যুর পর জেলায় হামের উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নারে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন রোগী এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫ জন।
মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানান, পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ ছাড়া হামে আক্রান্ত নিশ্চিত না হলেও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরটিভি/টিআর




