ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়েন দুই যুবক, অতঃপর...

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে ২৫ দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমান নামের দুই যুবক। জমি বিক্রি করে এবং সঞ্চয় সব টাকা খুইয়ে স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে এই দুই যুবক শুধু জান নিয়ে ফিরতে পেরেছেন দেশে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি ও মো. হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গী আলম ও জলি খাতুন বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বর্তমানে আদম ব্যাপারীর কাছে প্রতারিত দুই যুবক সব মিলে ২৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কাজ না পেয়ে বরং নির্যাতিত এবং সর্বশান্ত হয়েছেন। নির্যাতনের সেই বিভীষিকা ভুলতে না পেরে ঘুমের মধ্যেই চিৎকার করে প্রলাপ বকছেন।

অবশ্য, ভুক্তাভোগী যুবক শিহাব উদ্দিন এর প্রতিকার চেয়ে ১২ এপ্রিল আদম ব্যাপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার পুত্রবধু মোছা. জলি খাতুনের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন গ্রীসে থাকেন। তার সূত্রে ধরে তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মোছা. জলি খাতুন গ্রীসে যেতে ইচ্ছুক মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমানের সাথে গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য তাদের সঙ্গে দেনদরবার করেন। এরপর দরকষাকষি শেষে তাদের দুজনের কাছ থেকে দুই দফায় ২৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন জলি খাতুন ও তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম।

শিহাব ও হাবিবুর রহমান জানান, আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর ও তাঁর পুত্রবুধ জলি খাতুনকে টাকা দেওয়ার পর গত ৭ মার্চ তাদের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে গ্রীসে যাওয়ার উদ্দ্যেশে ঢাকা বিমান বন্দরে এনে একটি বিমানে তুলে দেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আমাদের লিবিয়ার বেনগাজি বিমান বন্দরে নামতে বলেন। আমরা সেই মোতাবেক বিমান থেকে নামার পরপরই ওই দেশের দুই ব্যক্তি জাকারিয়ার লোক হিসেবে আমাদেরকে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি একটি মাইক্রো গাড়িতে করে লিবিয়ার একটি অঞ্চলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে একটি ছোট্ট কক্ষে পূর্বে থেকে অবস্থান করা আরো প্রায় ৪০ জন লোকের সাথে আমাদের ওই রুমে রেখে তালাবদ্ধ করে চলে যান।

তারপর থেকে প্রায় ২০ দিন ধরে অনাহারে অর্ধাহারে রেখে দফায় দফার টাকার জন্য মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে দুজনের পরিবারের কাছে ফোনে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেন। পরবর্তীতে আমাদের পরিবার ওই আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুনের সাথে যোগাযোগ করেন।

তখন জলি এবং জাহাঙ্গীরের কথা মতো আমাদের দুই পরিবার সদস্যরা জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা লিবিয়ার ওই মাফিয়াদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর একদিনের পর আমাদের দুজনকে মাফিয়া চক্র ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে লিবিয়াতে অবস্থান করা আদম ব্যাপারী জলি খাতুনের মামা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিড়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী বাশারের মাধ্যমে আবার ১ লাখ টাকা দিয়ে আমরা সব খুইয়ে শুধু জান নিয়ে ৫ এপ্রিল দেশে ফিরে এসেছি।

আরও পড়ুন

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে শিহাব ও হাবিবুর রহমানকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য নিজে ৪ লাখ এবং তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আদম ব্যাপারী মোছা. জলি খাতুন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরাসরি গ্রীসে যাওয়া যায় না। এ কারণে প্রথমে তাদের দুজনকে পাঠানো হয়েছিল লিবিয়ায় অবস্থানরত আমার মামা বাশারের কাছে। কিন্তু শিহাব ও হাবিবুর রহমান উচ্চ মূল্যের কাজ চেয়ে তা না পেয়ে ফেরত এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের কাজ চলছে। আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে উত্তেজনা, বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সীমান্তে উত্তেজনা, বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের
চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার গলিতে আর কোনোদিন ফিরবেনা ফাইজান। বাড়ির সামনের ছোট্ট ফাঁকা মাঠেও বন্ধুদের সঙ্গে আর ক্রিকেট খেলবেনা সে। ফাইজানের মা ফারিয়া কবির কেক অর্ডার করেছিলেন। সেই কেকও আর কোনোদিন খাওয়া হবে না।
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে
কক্সবাজারের ইনানী পাটুয়ারটেক টুপটুপ রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পোড়া মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।  শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।  কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শোভক্তদীন আহমেদ সোহেল জানান, পরিচয় শনাক্তে মরদেহের ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে।   এর আগে, শনিবার সকাল ৭টায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৬ জনকে। নিহতরা হলেন— রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।  এই ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন— মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাব উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, টুপটুপ রিসোর্টে মোট ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তন্মধ্যে ২ জন মর্নিং ওয়ার্কে হোটেল থেকে বের হন। তারা বেঁচে যান।  অপরদিকে ঘটনা অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এর কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। এমনকি গত জুন মাসেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য তাদের ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনায় মামলা
কক্সবাজারের পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে টুপটুপ রিসোর্টের মালিক বোয়ালখালীর বাসিন্দা তানভীর আহমদকে।  শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০ টা ১৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। তবে তিনি মামলা কতজন এবং কারা আসামি বিষয়টি প্রকাশ করতে রাজি হননি। উখিয়া থানা ‍পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলছে, তানভীর আহমদ ছাড়াও এ মামলায় ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে কতজন আসামি ওই সূত্রটি জানাতে পারেননি। ইতিমধ্যে সুমনকে পুলিশ আটক করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এদিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ব্যাপারে ডিএনএ পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। তিনি জানান, উদ্ধার, নিখোঁজ, পরিচয় নিশ্চিতে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত দূর করতে ডিএনএ পরীক্ষার পর এসব মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে। কক্সবাজারস্থ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে এসে এখানেই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে প্রয়োজনীয় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। আরটিভি/এসআর
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনায় মামলা
ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সচেতনতামূলক লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ করা হয়েছে। 
ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ
আরও পড়ুন
প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতার বই আটকে উৎকোচ দাবি!
গরু চুরি রোধে বাঁশের ‘ব্যারিকেড’, রাত জেগে পাহারা
মাজার সংলগ্ন মসজিদ থেকে ঐতিহাসিক পাথর চুরি, অতঃপর...
গ্রাম্য বিরোধে অবরুদ্ধ দুই পরিবার