আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়েন দুই যুবক, অতঃপর...

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:৫৮ পিএম


আদম ব্যাপারীর খপ্পরে সব খুইয়ে দেশে ফিরলেন দুই যুবক
ছবি: সংগৃহীত

আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে ২৫ দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমান নামের দুই যুবক। জমি বিক্রি করে এবং সঞ্চয় সব টাকা খুইয়ে স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে এই দুই যুবক শুধু জান নিয়ে ফিরতে পেরেছেন দেশে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি ও মো. হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গী আলম ও জলি খাতুন বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বর্তমানে আদম ব্যাপারীর কাছে প্রতারিত দুই যুবক সব মিলে ২৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কাজ না পেয়ে বরং নির্যাতিত এবং সর্বশান্ত হয়েছেন। নির্যাতনের সেই বিভীষিকা ভুলতে না পেরে ঘুমের মধ্যেই চিৎকার করে প্রলাপ বকছেন।

অবশ্য, ভুক্তাভোগী যুবক শিহাব উদ্দিন এর প্রতিকার চেয়ে ১২ এপ্রিল আদম ব্যাপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার পুত্রবধু মোছা. জলি খাতুনের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন গ্রীসে থাকেন। তার সূত্রে ধরে তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মোছা. জলি খাতুন গ্রীসে যেতে ইচ্ছুক মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমানের সাথে গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য তাদের সঙ্গে দেনদরবার করেন। এরপর দরকষাকষি শেষে তাদের দুজনের কাছ থেকে দুই দফায় ২৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন জলি খাতুন ও তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম।

শিহাব ও হাবিবুর রহমান জানান, আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর ও তাঁর পুত্রবুধ জলি খাতুনকে টাকা দেওয়ার পর গত ৭ মার্চ তাদের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে গ্রীসে যাওয়ার উদ্দ্যেশে ঢাকা বিমান বন্দরে এনে একটি বিমানে তুলে দেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আমাদের লিবিয়ার বেনগাজি বিমান বন্দরে নামতে বলেন। আমরা সেই মোতাবেক বিমান থেকে নামার পরপরই ওই দেশের দুই ব্যক্তি জাকারিয়ার লোক হিসেবে আমাদেরকে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি একটি মাইক্রো গাড়িতে করে লিবিয়ার একটি অঞ্চলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে একটি ছোট্ট কক্ষে পূর্বে থেকে অবস্থান করা আরো প্রায় ৪০ জন লোকের সাথে আমাদের ওই রুমে রেখে তালাবদ্ধ করে চলে যান।

তারপর থেকে প্রায় ২০ দিন ধরে অনাহারে অর্ধাহারে রেখে দফায় দফার টাকার জন্য মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে দুজনের পরিবারের কাছে ফোনে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেন। পরবর্তীতে আমাদের পরিবার ওই আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুনের সাথে যোগাযোগ করেন।

তখন জলি এবং জাহাঙ্গীরের কথা মতো আমাদের দুই পরিবার সদস্যরা জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা লিবিয়ার ওই মাফিয়াদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর একদিনের পর আমাদের দুজনকে মাফিয়া চক্র ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে লিবিয়াতে অবস্থান করা আদম ব্যাপারী জলি খাতুনের মামা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিড়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী বাশারের মাধ্যমে আবার ১ লাখ টাকা দিয়ে আমরা সব খুইয়ে শুধু জান নিয়ে ৫ এপ্রিল দেশে ফিরে এসেছি।

আরও পড়ুন

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে শিহাব ও হাবিবুর রহমানকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য নিজে ৪ লাখ এবং তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আদম ব্যাপারী মোছা. জলি খাতুন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরাসরি গ্রীসে যাওয়া যায় না। এ কারণে প্রথমে তাদের দুজনকে পাঠানো হয়েছিল লিবিয়ায় অবস্থানরত আমার মামা বাশারের কাছে। কিন্তু শিহাব ও হাবিবুর রহমান উচ্চ মূল্যের কাজ চেয়ে তা না পেয়ে ফেরত এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের কাজ চলছে। আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission