ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়েন দুই যুবক, অতঃপর...

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে ২৫ দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমান নামের দুই যুবক। জমি বিক্রি করে এবং সঞ্চয় সব টাকা খুইয়ে স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে এই দুই যুবক শুধু জান নিয়ে ফিরতে পেরেছেন দেশে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি ও মো. হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গী আলম ও জলি খাতুন বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বর্তমানে আদম ব্যাপারীর কাছে প্রতারিত দুই যুবক সব মিলে ২৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কাজ না পেয়ে বরং নির্যাতিত এবং সর্বশান্ত হয়েছেন। নির্যাতনের সেই বিভীষিকা ভুলতে না পেরে ঘুমের মধ্যেই চিৎকার করে প্রলাপ বকছেন।

অবশ্য, ভুক্তাভোগী যুবক শিহাব উদ্দিন এর প্রতিকার চেয়ে ১২ এপ্রিল আদম ব্যাপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার পুত্রবধু মোছা. জলি খাতুনের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন গ্রীসে থাকেন। তার সূত্রে ধরে তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মোছা. জলি খাতুন গ্রীসে যেতে ইচ্ছুক মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমানের সাথে গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য তাদের সঙ্গে দেনদরবার করেন। এরপর দরকষাকষি শেষে তাদের দুজনের কাছ থেকে দুই দফায় ২৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন জলি খাতুন ও তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম।

শিহাব ও হাবিবুর রহমান জানান, আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর ও তাঁর পুত্রবুধ জলি খাতুনকে টাকা দেওয়ার পর গত ৭ মার্চ তাদের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে গ্রীসে যাওয়ার উদ্দ্যেশে ঢাকা বিমান বন্দরে এনে একটি বিমানে তুলে দেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আমাদের লিবিয়ার বেনগাজি বিমান বন্দরে নামতে বলেন। আমরা সেই মোতাবেক বিমান থেকে নামার পরপরই ওই দেশের দুই ব্যক্তি জাকারিয়ার লোক হিসেবে আমাদেরকে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি একটি মাইক্রো গাড়িতে করে লিবিয়ার একটি অঞ্চলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে একটি ছোট্ট কক্ষে পূর্বে থেকে অবস্থান করা আরো প্রায় ৪০ জন লোকের সাথে আমাদের ওই রুমে রেখে তালাবদ্ধ করে চলে যান।

তারপর থেকে প্রায় ২০ দিন ধরে অনাহারে অর্ধাহারে রেখে দফায় দফার টাকার জন্য মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে দুজনের পরিবারের কাছে ফোনে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেন। পরবর্তীতে আমাদের পরিবার ওই আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুনের সাথে যোগাযোগ করেন।

তখন জলি এবং জাহাঙ্গীরের কথা মতো আমাদের দুই পরিবার সদস্যরা জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা লিবিয়ার ওই মাফিয়াদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর একদিনের পর আমাদের দুজনকে মাফিয়া চক্র ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে লিবিয়াতে অবস্থান করা আদম ব্যাপারী জলি খাতুনের মামা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিড়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী বাশারের মাধ্যমে আবার ১ লাখ টাকা দিয়ে আমরা সব খুইয়ে শুধু জান নিয়ে ৫ এপ্রিল দেশে ফিরে এসেছি।

আরও পড়ুন

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে শিহাব ও হাবিবুর রহমানকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য নিজে ৪ লাখ এবং তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আদম ব্যাপারী মোছা. জলি খাতুন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরাসরি গ্রীসে যাওয়া যায় না। এ কারণে প্রথমে তাদের দুজনকে পাঠানো হয়েছিল লিবিয়ায় অবস্থানরত আমার মামা বাশারের কাছে। কিন্তু শিহাব ও হাবিবুর রহমান উচ্চ মূল্যের কাজ চেয়ে তা না পেয়ে ফেরত এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের কাজ চলছে। আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
মানিকগঞ্জে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে একটি ফ্ল্যাট বাসায় ঢুকে হাজেরা বেগম (৭০) নামে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তার গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর সেওতা এলাকার বায়তুল আমান ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাজেরা বেগমের মেয়ে আলেয়া বেগম বলেন, বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে বোরকা পরা এক ব্যক্তি বাসার গেটে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। তার মা দরজা খুলে দিলে ওই ব্যক্তি তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন নিয়ে পালিয়ে যান। ব্যক্তির হাতে একটি চালের ব্যাগ ছিল। তিনি আরও বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে পাশের বাসার লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তিনি বাসায় ফিরে মাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ শহরের পাশে উত্তর সেওতা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে আহত হাজেরা বেগম মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরটিভি/এসএস
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
কালিগঞ্জ মাদরাসায় এমপি রবিউল বাশারের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানিকেতন দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের সংবর্ধনা, আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সবক দেওয়া হয়েছে।
কালিগঞ্জ মাদরাসায় এমপি রবিউল বাশারের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জালে আটকে যাওয়া একটি বিষধর পদ্মগোখরা উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছঘাটে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলে ফারুক মাঝি এ মাছটি বিক্রি করেন।  মতিরহাট ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম খোকন জানায়, ঘাট এলাকার স্থানীয় জেলে ফারুক মাঝি এক সপ্তাহ সাগর থেকে ফিরে প্রায় দেড় লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেন। যার মধ্যে এ ইলিশটি পৃথকভাবে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।  ঢাকার মাছ ব্যবসায়ী মো. বাহার মিয়া মাছটি কিনে নেন।  বাহার মিয়া জানান, তিনি এ মাছটিসহ অন্য মাছগুলো ঢাকার বাজারে নেবেন। সেখানে গিয়ে এ মাছটির দাম কত হবে, এমনটি জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কমপক্ষে ১ থেকে ২ হাজার লাভে বিক্রি করবো। তারপর ঢাকার ব্যবসায়ীরা আরও এক-দুই হাজার লাভ করতে পারে। সব মিলে এ রকম বড় সাইজের এ ইলিশটির দাম ঢাকার বাজারে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। বাহার মিয়া বলেন, ছোট মাছে কেজি প্রতি লাভ হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্ত বড় ইলিশে ভালো লাভ করা যায়।  এদিকে স্থানীয় আড়তদার আনোয়ার জানান, নদীতে ইলিশ কমে গেছে। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে জেলেদের এখন মাছ শিকার কঠিন হয়ে পড়েছে। আরটিভি/এসএস
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় শাপলা ফুল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন উপজেলার তিন হাজার মানুষ।
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
আরও পড়ুন
গ্রাম্য বিরোধে অবরুদ্ধ দুই পরিবার
সিরাজগঞ্জে আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
‘আমরা দালাল নই, আমরাও মানুষ’
সিরাজগঞ্জে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু