সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়ায় করতোয়া নদীতে থাকা খেয়া ঘাটে তেল সংকটের কারণে দুই পাড়ে দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা চালাচ্ছেন ঘাটের মাঝিরা। দীর্ঘকাল ধরে এই ঘাটে শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে নৌকা চালানো হতো। তবে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তেল না পেয়ে সেই ঘাটে দড়ি টেনে নৌকা চলাচল করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার লোক বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাট পার হয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে নৌকা চলাচল। ঘাটের নৌকায় শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে নদী পারাপার করেন মাঝিরা। প্রতিদিন নৌকা চালাতে তাদের তেলের প্রয়োজন হয় অন্তত ৩ লিটার। কিন্তু তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে আবেদন করার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে তাদের ঘাটের নৌকার জন্য প্রতিদিন এক লিটার করে তেল পাচ্ছেন। এতে অর্ধেক দিনও নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
ঘাটের মাঝি আব্দুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তেল সংকটে নিরুপায় হয়ে খেয়া নৌকা চালু রাখতে ১ সপ্তাহ ধরে তারা নদীর দুই পারে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তাতে এপার ওপার দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা চালাচ্ছেন। হাতে দড়ি টেনে দীর্ঘ সময় নৌকা চালানো খুবই কষ্টকর। তারপরেও তাদেরকে দড়ি টেনেই নৌকা চালাতে হচ্ছে। এ সব মাঝি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদানের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন হোসেন ও সাকিব হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাটে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারাপার হয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে তেল সংকট দেখা দেওয়ায় এই ঘাট মাঝিরা তাদের নৌকার জন্য উপযুক্ত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না তা ছাড়া এতে নদী পারাপারে সময়ও বেশি লাগছে।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশেও জ্বালানি তেলের প্রভাব পড়েছে। যে কারণে এখন তেল রেশনিং করা হচ্ছে। বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া ঘাট দিয়ে প্রচুর লোকজন যাতায়াত করেন বলে জেনেছি। আপাতত ঘাট মাঝিদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদের কষ্ট লাঘবে সব ধরনের চেষ্টা করছি।
আরটিভি/এমএইচজে




