‘টোকেনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং মাসোহারাও দিয়েছি, তবু কেন গাড়ি ভেঙেছে’

স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৩৭ পিএম


‘‘টোকেনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং মাসোহারাও দিয়েছি, তবু কেন গাড়ি ভেঙেছে’’
মাটি কাটার ভেকু : ছবি আরটিভি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মো. রাশেদ উদ্দিন নামে এক মাটি ব্যবসায়ীর অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল অডিওটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই অডিও রেকর্ডে মাটি ব্যবসায়ী রাশেদকে বলতে শোনা যায়, আপনারা গাড়ি চালানোর কথা বলছেন, আর আমার গাড়ি ভেঙেছে এটার কৈফিয়ত আপনারা কেউ দিচ্ছেন না কেন? আমি টোকেনের জন্য দিয়েছি ১ লাখ টাকা এবং মাসোহারাও দিয়েছি। এরপরও পুলিশ এবং ইউএনও আমার গাড়ি কেন ভেঙেছে? আপনারা এটা কেউ প্রশ্ন না করে পুনরায় গাড়ি লাগিয়েছেন। এই প্রশ্নটা করতে হবে এবং আমার ১ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। আর ২৫ হাজার টাকা ওসির জন্য আমি পুলিশকে দিয়েছি। এগুলোর কেউ কৈফিয়ত কেন দিচ্ছেন না।

অডিও রেকর্ডটির কমেন্ট বক্সে নেটিজনরা নানা মন্তব্য করেছেন। মো. রিয়াদ নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, সমঝোতায় সব সম্ভব। খান মোহাম্মদ ফোরকান লিখেছেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আমি প্রশ্ন করেছি, তারা অস্বীকার করেছে। মো. রায়হান সোবহান লিখেছেন, চলুক ভাগাভাগি করে।  ফয়সাল আহমেদ লিখেছেন, সমঝোতার মাধ্যমে খাইলে দোষ নাই। এই ইউএনও বহুত বড় আউলিয়া। 

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জানতে মাটি ব্যবসায়ী মো. রাশেদ উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরটিভিকে বলেন, সেখানে তো শুধু একজন না; অনেকজন মাটি কাটে। কিন্তু প্রশাসন তো মাটি কাটতে দিবে না। পরে ইটভাটা মালিক সমিতি বলেছে, ১ লাখ টাকা করে দিলে মাটি কাটতে পারবেন, না হয় পারবে না। এরপর আমি সমিতিকে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছি।

রাশেদ আরও বলেন, এছাড়া ওসির জন্য মাসোহারা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমার সঙ্গে ওসির কখনো দেখা হয়নি। বিষয় শুধুমাত্র এতটুকুই।

তবে, ২৫ হাজার টাকা মাসোহারা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও সত্য না। আমি কারো কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিইনি। 

এ বিষয়ে জানতে সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলমের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডের কমেন্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি কমেন্ট করেছেন। 

তিনি লিখেছেন, ছবির এডিট ভালো হয়েছে (বিশেষ করে দাঁতগুলো), বানানে ভুল আছে। আপনার এই প্রচারে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের আপোষহীন অবস্থান ক্লিয়ার হলো। আপনি হয়তো ক্যাপশন একটা দিয়েছেন আপনার মনের দুঃখ থেকে। অডিও শুনলে যে কেউ বুঝবে কার অবস্থান কী। ভবিষ্যতে আরও ভালো যুতসই প্রমাণ জোগাড় করে মাঠে আসবেন। ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত, মো. রাশেদ উদ্দিন মাটি ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহানী মৌজার কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission