মামাতো ভাইয়ের কবরে মিলল ফুফাতো ভাইয়ের মরদেহ, ঘটনা কী

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৩৭ পিএম


মামাতো ভাইয়ের কবরে মিলল ফুফাতো ভাইয়ের মরদেহ, ঘটনা কী
চর চটাং এলাকার ফারুক মাদবরের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়, ইনসেটে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর মনু বেপারী (৬৫) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ তারই মামাতো ভাইয়ের কবর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকার ফারুক মাদবরের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মনু বেপারী তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী আছিয়া বেগম দুই সন্তান রেখে ১৯ বছর আগে মারা গেলে চার বছর আগে খাদিজা বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন মনু। তবে সেই স্ত্রী এক বছর আগে মনু বেপারীর জমি বিক্রির সাত লাখ টাকা নিয়ে চলে গিয়ে উল্টো তাকে তালাক দেন। পরে তিনি তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন এরপর থেকেই মনু বাড়িতে একাই থাকতেন।

স্বজনরা গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৫ দিন ধরে হঠাৎ করেই মনুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়রাও খেয়াল করেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে গত ১৩ এপ্রিল পালং মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনুর বোন মিনারা বেগম।

এরপর সোমবার সকালে মনুর বোন মিনারা বেগম বাড়ির পাশে তিন বছর আগে মারা যাওয়া মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরের ওপর নতুন মাটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। এছাড়া তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবরের পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে একটি রহস্যজনক গর্তও খুঁজে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ পুরোনো কবরের মধ্যে মনুর মরদেহ দেখতে পায়।

ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে মনু বেপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রী পারভীন গা ঢাকা দেন।

এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

মনু বেপারীর মেয়ে মিম আক্তারের দাবি, তার সৎমা খাদিজা এবং বাবার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ও তার স্ত্রী মিলে বাবাকে হত্যা করেছে। 

তিনি বলেন, আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। এই ঘটনায় বাবা একটি মামলা করেন। সে কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ফারুক ও তার স্ত্রীকে টাকা দিয়ে বাবাকে হত্যা করিয়েছেন। মরদেহ গুম করার জন্য প্রথমে একটি ঘরের মধ্যে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় পুরোনো কবরে রেখে দেওয়া হয়। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।

আরও পড়ুন

মনু বেপারীর বোন মিনারা বেগম বলেন, আমি আমার ভাইকে অনেক জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। থানায় জিডি করেছি। আমার ভাই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিল, তার আগামীকাল আদালতে শুনানি ছিল। আমার ভাইয়ের স্ত্রী লোকজন দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সবার বিচার চাই।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৩ তারিখ মনু বেপারীর নিখোঁজের জিডি করা হয়েছিল। তার অনুসন্ধানে এসে পুরোনো একটি কবরের মধ্যে মরদেহ পাওয়া যায়। আমরা ধারণা করছি, তাকে হত্যা করে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। মরদেহটি যেহেতু মাটির নিচে রয়েছে, তাই ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission