ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মামাতো ভাইয়ের কবরে মিলল ফুফাতো ভাইয়ের মরদেহ, ঘটনা কী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
চর চটাং এলাকার ফারুক মাদবরের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়, ইনসেটে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর মনু বেপারী (৬৫) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ তারই মামাতো ভাইয়ের কবর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকার ফারুক মাদবরের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মনু বেপারী তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী আছিয়া বেগম দুই সন্তান রেখে ১৯ বছর আগে মারা গেলে চার বছর আগে খাদিজা বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন মনু। তবে সেই স্ত্রী এক বছর আগে মনু বেপারীর জমি বিক্রির সাত লাখ টাকা নিয়ে চলে গিয়ে উল্টো তাকে তালাক দেন। পরে তিনি তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন এরপর থেকেই মনু বাড়িতে একাই থাকতেন।

স্বজনরা জানান, গত ২৫ দিন ধরে হঠাৎ করেই মনুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়রাও খেয়াল করেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে গত ১৩ এপ্রিল পালং মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনুর বোন মিনারা বেগম।

এরপর সোমবার সকালে মনুর বোন মিনারা বেগম বাড়ির পাশে তিন বছর আগে মারা যাওয়া মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরের ওপর নতুন মাটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। এছাড়া তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবরের পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে একটি রহস্যজনক গর্তও খুঁজে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ পুরোনো কবরের মধ্যে মনুর মরদেহ দেখতে পায়।

ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে মনু বেপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রী পারভীন গা ঢাকা দেন।

এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

মনু বেপারীর মেয়ে মিম আক্তারের দাবি, তার সৎমা খাদিজা এবং বাবার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ও তার স্ত্রী মিলে বাবাকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। এই ঘটনায় বাবা একটি মামলা করেন। সে কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ফারুক ও তার স্ত্রীকে টাকা দিয়ে বাবাকে হত্যা করিয়েছেন। মরদেহ গুম করার জন্য প্রথমে একটি ঘরের মধ্যে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় পুরোনো কবরে রেখে দেওয়া হয়। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।

আরও পড়ুন

মনু বেপারীর বোন মিনারা বেগম বলেন, আমি আমার ভাইকে অনেক জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। থানায় জিডি করেছি। আমার ভাই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিল, তার আগামীকাল আদালতে শুনানি ছিল। আমার ভাইয়ের স্ত্রী লোকজন দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সবার বিচার চাই।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, গত ১৩ তারিখ মনু বেপারীর নিখোঁজের জিডি করা হয়েছিল। তার অনুসন্ধানে এসে পুরোনো একটি কবরের মধ্যে মরদেহ পাওয়া যায়। আমরা ধারণা করছি, তাকে হত্যা করে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। মরদেহটি যেহেতু মাটির নিচে রয়েছে, তাই ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে জালে ইলিশ ‘হাসলেও’ জেলেদের চোখে পানি
গত কয়েক দিন ধরে বলেশ্বর নদীতে তুলনামূলক ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে। একের পর এক ট্রলার ঘাটে ফিরছে। এতে জেলে, পাইকার ও আড়তদারদের মধ্যে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদীসহ উপকূলীয় এলাকায় শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এতে একদিকে শেষ সময়ে ইলিশ পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জেলেদের মধ্যে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার চিন্তায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ঋণগ্রস্ত অনেক জেলে।
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে জালে ইলিশ ‘হাসলেও’ জেলেদের চোখে পানি
এক বাড়িকে সুবিধা দিতে ৪১ লাখ টাকার সেতু!
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নে একটি বাড়ির সামনে ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যয় হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের পর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এক বাড়িকে সুবিধা দিতে ৪১ লাখ টাকার সেতু!
মধ্যরাতে আগুনে পুড়ল ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলসহ অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে গেছে।
মধ্যরাতে আগুনে পুড়ল ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার ভুয়া কাবিননামা তৈরি, অতঃপর...
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে এফিডেভিট ও জাতৗয় পরিচয়পত্র দিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।  পাটুলী গ্রামের এক নারীর স্বামী মারা যান প্রায় এক যুগ আগে। প্রায় চার বছর আগে তার দ্বিতীয় ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় এলাকার আব্দুল কদ্দুছকে তার উকিল শ্বশুর করা হয়। এই সুবাদে তাদের বাড়িতে যাতয়াত ছিল আব্দুল কুদ্দুছের। স্থানীয় আব্দুস ছাত্তারের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে ওই বিধবা নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন তিনি। প্রতিবারই বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিতেন ওই নারী।  প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন আব্দুস ছাত্তার। কৌশলে তার দোকানে নিয়ে নিরক্ষর ওই নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট ছবি নেন। কয়েকদিন পর একটি খাতায় দুটি টিপসইও নেন ছাত্তার। সম্প্রতি আব্দুল কুদ্দুছের সঙ্গে ওই বিধবা নারীর বিয়ের একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে প্রচার করা হয়। পরে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার দেন ভুক্তভোগী নারী।  গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামে শালিস বসে। শালিসে নারীর মুখ থেকে বিস্তারিত শোনেন উপস্থিত লোকজন। কিন্তু শালিসে অভিযুক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় আবারও আগামীকাল বুধবার শালিস হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, হতদরিদ্র ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা করেছেন আব্দুর কুদ্দুছ। পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসের সীল যুক্ত একটি কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য ও ৫০ হাজার টাকা আদায় দেখানো হয়েছে। কাবীননামায় স্বাক্ষী হিসেবে আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। অথচ তারা কেউ বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।  কাবীননামায় স্বাক্ষীরা বলেন, আব্দুস ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এই কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আব্দুল হেকিম মাস্টার নামে একজন জড়িত রয়েছেন। শালিসে আব্দুস ছাত্তারকে উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তিনি আসেননি। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে একদিন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেকদিন ফোন দিয়ে ছাত্তারের দোকেনে নিয়ে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। এখন গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনি রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি বিচার চাই। বিয়ের কাবিনে সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ থাকা আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম জানান, ওই বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানতেন না তারা। আব্দুস ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এসব করেছেন। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন আব্দুল হেকিম মাস্টার নামে আরেক ব্যক্তি। পৌরসভার ১, ২ ও ৩ ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তার সীল ও স্বাক্ষর জাল করে কাবিননামাটি করেছেন কেউ। বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক বলেন, ‘আমার বিএনপির কেউ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছে এমন কিছুর সত্যতা পাইনি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগের ভাষ্য, ভুক্তভোগী নারীর সম্মানহানীর বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসআর
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার ভুয়া কাবিননামা তৈরি, অতঃপর...
চরফ্যাশন হাসপাতালের প্রধান সহকারীর সম্পদের অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে অভিযোগ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর পদে থাকা মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তার নামে-বেনামে থাকা এসব সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হাসিব নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া ভোলা সিভিল সার্জন বরাবরও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন হাসপাতালের প্রধান সহকারীর সম্পদের অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে অভিযোগ
আরও পড়ুন
ঘরের আড়া থেকে যুবতীর মরদেহ উদ্ধার, স্বজনদের দাবি হত্যা
নিখোঁজের একদিন পর হলুদ ক্ষেতে মিলল ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ
ধানক্ষেতে মিলল গলাকাটা মরদেহ
ঢামেকের বাথরুম থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার