খাগড়াছড়ি সদরের আপার পেরাছড়া গ্রামের আপার পেরাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের বটগাছে একটি লজ্জাবতী বানর দেখতে পান অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিনয় চাকমা। পরে তিনি বানরটিকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি বন বিভাগকে খবর দিলে বন বিভাগের লোকজন এসে বানরটিকে নিয়ে যায়।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিনয় চাকমা জানান, তিনি মঙ্গলবার সকালে হাঁটতে গিয়ে স্কুলের মাঠের বটগাছে লজ্জাবতী বানরটিকে দেখতে পান। বানরটিকে কেউ হত্যা করতে পারে বা কুকুরে কামড়ে মেরে ফেলতে পারে— এই আশঙ্কায় তিনি বন বিভাগকে খবর দেন।
খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যেখানে গাছপালা থাকে, সেখানে বন্যপ্রাণীও থাকে। এতে বোঝা যায়, সেখানকার পরিবেশ ভালো। খাগড়াছড়িতে অনেক বন্যপ্রাণী রয়েছে, তবে লজ্জাবতী বানর লোকালয়ে চলে আসা খুবই বিরল ঘটনা। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বানরটিকে উদ্ধার করে তাদের খবর দেন। বর্তমানে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বানরটির যত্ন নিচ্ছেন।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিনয় চাকমার দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, লজ্জাবতী বানর ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’ (Bengal Slow Loris) নামেও পরিচিত। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বনবিটসহ সিলেট ও চট্টগ্রামের ঘন গহীন বনে মূলত এদের বাস।
নিশাচর এই প্রাণীটি গাছের উঁচু ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে এবং খুব ধীরে চলাচল করে। বানরের অন্যান্য প্রজাতির মতো এরা যত্রতত্র ঘোরাঘুরি না করে সব সময় নিজেকে আড়াল রাখতে পছন্দ করে। মূলত গাছের কচিপাতা, আঠা, ফলমূল, ছোট পোকামাকড় ও পাখির ডিম খেয়ে থাকে। মজার বিষয় হলো, খাওয়ার সময় এরা হাত ব্যবহার না করে সরাসরি মুখ দিয়ে খাবার গ্রহণ করে। বছরে একবার মাত্র একটি বাচ্চা জন্ম দেয় এই প্রাণীটি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বনাঞ্চলে ঠিক কতটি লজ্জাবতী বানর রয়েছে, তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে বন উজাড় এবং খাদ্য ও আবাসস্থলের সংকটের কারণে সুন্দর এই প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে ‘সংকটাপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বন্যপ্রাণী আইন-১৯৭৪ ও বন্যপ্রাণী আইন-২০১২-এর তফসিল-১ অনুযায়ী এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটিকে হত্যা, শিকার করা বা কোনো ধরনের ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
আরটিভি/এমএইচজে




