পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়নে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
কয়েক সপ্তাহ ধরে পিরোজপুর জেলার তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে গড়ে ৭ থেকে ৮ বার এবং রাতে ৬ থেকে ৭ বার লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তিতে ঘুমাতে পারছেন না কেউই। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দুর্ভোগ আরও বেশি বেড়েছে। এদিকে উপজেলার কয়েক হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থী এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছে।
এসএসসি শিক্ষার্থী চুমকি আক্তার জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না, যা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে ব্যাহত করছে। রাতে অনেকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে পড়াশোনায় খুব ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান দরকার।
অন্যদিকে, দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। গরমে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরেও তারা পাচ্ছেন না বিশ্রামের সুযোগ।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আমিনুল ইসলাম সুমন আরটিভি নিউজকে জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হয়। যেখানে ১৬ মেগাওয়াট ডিমান্ড, সেখানে বিদ্যুৎ পাই কখনও ১২ মেগাওয়াট কখনও ৬ মেগাওয়াট। এটা ভান্ডারিয়া গ্রিট থেকে কন্ট্রোল করে। ফ্রিকুয়েন্সি ডাউন হলে লোড কমিয়ে দেয় তারা। গ্রিট থেকে যখন বলে তখনই সাথে সাথে লোডশেডিং দিতে হয়। কতবার লোডশেডিং দিতে হয় তার হিসাব আমাদের কাছেও নেই। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া চেষ্টা চলছে।
আরটিভি/এসএস



