জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

রাঙামাটি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:১৭ পিএম


জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

রাঙামাটির বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলাটির ভুষণছড়া ইউনিয়নের হরিণা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক এই মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে, বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন মোজাম্মেল হক। এর আগে, রোববার (১৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে চাঁদাবাজির মামলা করেন তিনি।

মামলায় দুইজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- বরকল উপজেলার দক্ষিণ এরাবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৮) ও কলাবুনিয়া গ্রামের মো. আজিমুদ্দিনের ছেলে মো. নূর হোসেন (৩৪)। 

অভিযুক্ত রবিউল বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। তিনি হরিণার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের নিকট দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় (সাইবার পিটিশন নং-১৩৯/২০২৬) জানা যায়, বাদী ও ১নং আসামি একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ২নং আসামির বাড়ি লালমনিরহাট জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাদীর একই এলাকায় বসবাস করেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর নিকট অন্যায় ও অনৈতিক দাবি করছিল। বাদী আসামিদের অন্যায়, বেআইনি ও অনৈতিক দাবি প্রত্যাখান করায় আসামিরা বিভিন্নভাবে বাদীর ব্যবসায়িক সুনাম ও পরিবারিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করে বাদীকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি-ধামকি প্রদান করতে থাকে। 

আসামিদের ক্রমাগত হুমকি ধমকির পরেও অন্যায় ও বেআইনি দাবি মেনে না নেওয়ায় বাদীকে ব্ল্যাকমেইল করার অপচেষ্টা ও পায়তারা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ এপ্রিল রাত থেকে মো. রবিউল ইসলাম ও মো. নুর হোসেন নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে মানহানিকর পোস্ট দিতে থাকে। যেখানে বাদীকে কখনও চোরাকারবারী, কখনো অবৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে সীমান্তে প্লাস্টিক পণ্য, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার এবং অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন তারা। 

আসামিরা বাদীর ব্যবসায়িক সুনাম ও পারিবারিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ব্লেকমেইল করছে। বিষয়টি নিয়ে বাদী আসামিদের সাথে যোগাযোগ করে কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, তাদের দাবি মোতাবেক দশ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে ভবিষ্যতে আরও নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি খুলে একই রকম পোস্ট করে তার ব্যবসায়িক ও সামজিক এবং পারিবারিক সুনাম, মান-সম্মান ক্ষুন্ন করবে। 

এ নিয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। 

মামলার বিষয়ে জামায়াত নেতা মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল আলিম জানান, মামলা যদি করে থাকে আর চাঁদা যদি চেয়ে থাকে তবে শাস্তি পেতে হবে তাই না। সে জামায়াত হোক আর যেই হোক। চাঁদা যদি সত্যি চেয়ে থাকে তবে শাস্তি হবে। আর সত্য না হলে তো হবে মিথ্যা মামলা। এজন্য খোঁজখবর নেওয়া দরকার বিষয়টা সঠিক কিনা। তবে ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের ব্যবসায়িক সমস্যা বসে সমাধান করার কথা ছিল। এরপর আর আসেননি। তিনি বলেছিলেন তার মা অসুস্থ, দৌঁড়াদৌঁড়িতে আছেন। এতটুকু জানি। মামলার বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

এদিকে মামলা দায়েরের বিষয়টি আসামিরা জানার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং তাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী মোজাম্মেল হক। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি ২২ এপ্রিল বরকল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। 

বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মোজাম্মেল হক নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission