বন্ধ স্পিডবোট সার্ভিস, বিপাকে যাত্রীরা

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০১ পিএম


বন্ধ স্পিডবোট সার্ভিস, বিপাকে যাত্রীরা
ছবি: সংগৃহীত

পেট্রোল, অকটেন সংকটের কারণে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প সময়ে স্পিডবোটযোগে চলাচলকারী যাত্রীরা। একই সঙ্গে আয় বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েছেন বোটচালক ও শ্রমিকেরা, আর লোকসানের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মালিকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯ এপ্রিল সকাল থেকে এ নৌপথে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে কয়েক দিন সীমিত আকারে চললেও জ্বালানি সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকেরা।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা এবং পাবনার কাজিরহাট নৌ-পথে স্পিডবোট চালু হবার পর থেকে মোড়ে যাওয়া ঘাট দু’টি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পাবনার সাঁথিয়া, বেড়া, ঈশ্বরদীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ সময় বাঁচাতে এ পথে ব্যবহার করতেন। স্পিডবোটে মাত্র ২০-২৫ মিনিটে নদী পার হওয়া যেত, যা যাত্রীদের কাছে দ্রুত ও সুবিধাজনক মাধ্যম ছিল।

বর্তমানে স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ফেরি ও লঞ্চের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে নদী পার হতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি। ফেরি ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় অপেক্ষার সময় মিলিয়ে যাত্রা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। আগে যেখানে কাজীরহাট থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায়।

বোটচালক মো. শাহিন মিয়া বলেন, একজন চালক দিনে দুই থেকে সর্বোচ্চ তিনটি ট্রিপ মারতে পারেন। প্রতি ট্রিপে ৫০০ টাকা করে মেলে। অর্থাৎ দুর্মূল্যের এই বাজারে আমাদের আয়ও বেশি না। সেখানে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়ে গেলাম।

পাবনা থেকে আসা যাত্রী মীর মোশারফ বলেন, স্পিডবোট থাকলে ২০ মিনিটেই নদী পার হওয়া যেত, এখন ফেরিতে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে।

আরেক যাত্রী মুনসুর মিয়া বলেন, সময় বাঁচাতে স্পিডবোটে যাতায়াত করতাম। এখন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বোটের মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, এ নৌপথে ১৪০টির বেশি স্পিডবোট রয়েছে। প্রতিদিন রোটেশন পদ্ধতিতে প্রায় ৩০টি বোট চলাচল করত, যার জন্য ৮০০ থেকে ১০০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হতো। কিন্তু বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় বোট চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্পিডবোটের মালিক আবু সাইয়ীদ বলেন, ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বোট কিনেছি। এখন জ্বালানি না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে, প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আরেক মালিক রুবেল মিয়া জানান, আগে শিবালয়ের চারটি ফিলিং স্টেশন থেকেই জ্বালানি পাওয়া যেত, এখন সেই সরবরাহ নেই।

আরিচা স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. রহমত আলী লাভলু ব্যাপারী বলেন, প্রতিদিন এই রুটে সিরিয়াল মোতাবেক আরিচার ১৫টি এবং কাজিরহাটের ১৫টি এই মোট ৩০টি বোট চলাচল করে, যাতে গড়ে ৮শ’ থেকে ১০০০ লিটার পেট্রোল বা অকটেনের প্রয়োজন হয়। সেখানে গত রোববার থেকে একফোটা জ্বালানিও মিলছে না। তেল না থাকায় মালিকদের দৈনিক প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তেল সংকটের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এরপরও তেল মিলছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোট মালিকরা পাশাপাশি চালকরা বেকার বসে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশীম খাবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রাণী কর্মকার বলেন, তেল সংকটের ব্যাপারে তেলের পাম্পগুলোতে আমাদের নিয়োমিত মনিটরিং রয়েছে। স্পিডবোটের তেল সংকটের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আজ সন্ধায় সারমানো পাম্পে পেট্রোল আসলে এ সংকট থাকবে না বলে তিনি জানান।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission