দিনাজপুরের হিলিতে ভয়াবহ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে ফ্রিজে রাখা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হিলিবাসী এখন দিশেহারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ চাকুরিজীবী—সবার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
হিলি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হিলির ফার্মেসিগুলোতে। ফ্রিজে সংরক্ষিত ইনসুলিন, বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন ও জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় না থাকায় গুণমান হারাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ নষ্ট ওষুধ ফেলে দিয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালিয়েও বাড়তি খরচ সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। গুণমানহীন ওষুধ বিক্রির ভয়ে অনেক ফার্মেসি মালিক গুরুত্বপূর্ণ ইনজেকশন মজুত রাখা বন্ধ করে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর।
হিলির এসএসসি পরীক্ষার্থী খোয়াইব হাসান জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পরীক্ষার পড়া ঠিক মত পড়তে পারছেন না। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত পড়া লেখা করার প্রয়োজন সেই সময়ের মধ্যে একাধিকবার বিদ্যুৎ যায়। এতে করে এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল নিয়ে চিন্তিত তার মতো অনেক শিক্ষার্থী।
এদিকে, হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর এজিম মোহাম্মদ সোহওরায়ার্দী জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এই উপজেলাতে প্রতিদিন ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে আড়াই গোওয়াট বিদ্যুৎ। এতে করে আমরা বিদ্যুৎ অফিস বিদ্যুৎ সমানভাবে বণ্টন করতে পারছিনা।
অন্যদিকে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে আরোও লোডশেডিং হবে বলেও তিনি জানান।
আরটিভি/এমএম




