পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তেলের পাম্পে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে, নিবন্ধনহীন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় দুটি মোটরসাইকেলের চালককে মামলা দেন তিনি।
ইউএনওর দেহরক্ষী তৈবুল ইসলামকে (৪৩) মারধর করে তার অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান বলেও জানা গেছে। পরে, তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার ভাউলাগঞ্জে অবস্থিত মেসার্স জান্নাতুন মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, জ্বালানি তেল কিনতে ওই ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তবে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ মোটরসাইকেল চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফুয়েল কার্ড বা গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাদের জন্য ফুয়েল কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র থাকা চালকরাও ঠিকমতো তেল পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে সেখানে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাককে অবগত করলে দুপুরের দিকে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, যাদের কাছে ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা যেন লাইন ত্যাগ করেন। এসময় কাগজপত্র না থাকায় দুজন চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
এদিকে জরিমানা করার পরপরই হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন বিক্ষোভ শুরু করেন ও ইউএনওসহ তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালান। এসময় বিক্ষুব্ধরা ইউএনওর দায়িত্বরত দেহরক্ষীর ওপর চড়াও হয় ও তার সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আহত হন দেহরক্ষী তৈবুল। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় ইউএনও পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, পাম্পে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। লাইনে থাকা কাগজপত্র বিহীন মোটরসাইকেল চালকদের চলে যেতে বলায় ও দুজনকে জরিমানা করায় শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমার বডিগার্ডের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে আমার বডিগার্ড দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। যেহেতু বিষয়টি সরকারি কাজে বাধার ঘটনা, সে কারণে আমরা বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর




