ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, অতঃপর...

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম


ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, অতঃপর...
প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। ছবি: আরটিভি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে দীর্ঘ দিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, সোমবার (২০ এপ্রিল) দুই স্কুল শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পশ্চিম মির্জা নগর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রধান শিক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দেলোয়ার উপজেলার পূর্ব মির্জা নগর গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। অপরদিকে মামলার অন্য আসামিরা হলেন, তিন তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮)। এছাড়াও আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রাইভেট পড়ার সুবাদে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। তখন ছাত্রীর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ছাত্রীকে ফুসলিয়ে একটি প্রাইভেট রুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু আপত্তিকর স্বীকারোক্তি কাগজে লিখিয়ে নেন ও ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ও কাগজের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে ছাত্রীকে দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক স্থানে ধর্ষণ করা হয়। মামলার অপর আসামি শংকর চন্দ্র মজুমদার এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত দেলোয়ার। তিনি ছাত্রীর স্বামীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছাত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসামিরা পুনরায় তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ছাত্রী নোয়াখালী মহিলা কলেজে অনার্স পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আসামিরা তার পথরোধ করে পুনরায় কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রথমে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালত অভিযোগ দায়ের করলে আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission