ধর্ষণের অভিযোগ তুলে হাতিয়ে নেওয়া হলো বৃদ্ধের গরু বিক্রির টাকা! 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:৫৬ পিএম


ধর্ষণের অভিযোগ তুলে হাতিয়ে নেওয়া হলো বৃদ্ধের গরু বিক্রির টাকা! 
ধর্ষণের অভিযোগ তুলে হাতিয়ে নেওয়া হলো বৃদ্ধের গরু বিক্রির টাকা। ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাজানো ধর্ষণের ঘটনায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ হযরত আলীর থেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও খোলা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশাালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের শেষ সম্বল গরু বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি প্রভাবাশালীদের কাছ থেকে রেহাই পেয়েছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বৃদ্ধের কাছ থেকে টাকা নেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে, রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় উপজেলার বরমীর কাশিজুলী (নতুন বাজার) পশ্চিমপাড়া গ্রামে প্রভাবাশালীরা বৃদ্ধকে ডেকে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে।

পরে, স্ট্যাম্প চাইতে গেলে প্রভাবশালীরা আরো ২০ হাজার টাকা দাবী করেন।

অভিযুক্তরা হলো কাশিজুলী (নতুন বাজার) পশ্চিমপাড়া গ্রামের হানিফ প্রধানের ছেলে জালাল প্রধান, হাশেম প্রধানের ছেলে বারেক প্রধান, হেকিম প্রধানের ছেলে শামসুল প্রধান, হযরত আলী প্রধানের ছেলে ছালাম প্রধান, হাফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম মধু শেখসহ তাদের ৮-১২ জন সহযোগী।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শামছুল প্রধান ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। তারা সালিশ বসিয়ে সাজানো ধর্ষণের ঘটনায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ হযরত আলীর কাছ থেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও খোলা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখে।

হযরত আলী বলেন, তিনি গরিব মানুষ। অন্যর জমি বর্গা চাষ করে স্ত্রী, ছলে-মেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে জীবন পার করছএন তিনি। তার উপর সাজানো এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, প্রভাবশালীরা তার জীবন শেষ করে দিয়েছে। নিজের ওপর এমন কথা উঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। তিনি আর বাঁচতে চাননা। তার ডাঙ্গর (বড়) পুতাইনের (ছেলেদের) সামনে তার ওপর তুলে দেওয়া অপবাদের কথা মনে হলেই মরে যেতে ইচ্ছে করে। তিনি সহ্য করতে পারছেন না, তার ওপর তুলে দেওয়া অপবাদ মনে হলেই পাগল হয়ে যাইগা।

তিনি আরও বলেন, রোববার অভিযুক্ত প্রভাবাশালীরা তাকে খবর দিয়ে মেয়ের বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন লোকজন নিয়ে সালিশ বৈঠকের মতো আয়োজন করে প্রভাবশালীরা বসে আছেন। সম্প্রতি ঝড়ে ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেলে মেরামতের জন্য ৪৮ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু বিক্রি করএন তিনি। প্রভাবশালীদের চাপে তার ছেলে গরু বিক্রির টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা এনে জালাল প্রধানের হাতে দেয়। পরে খোলা স্ট্যাম্পে তিন জায়গায় তার সই (স্বাক্ষর) রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা তার গরু বিক্রির টাকা খেয়ে ফেললো।

তাদের কাছে স্ট্যাম্প চাইতে গেলে আরো ২০ হাজার টাকা দাবী করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বৃদ্ধে ছেলে শাহীন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। নুন আনতে পানতা ফুরায়। কাজে বের না হলে আমার ঘরে ভাত জুটে না। আমি একাই উপার্জন করে পরিবারের ৬ জনের ভরনপোষন করি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, ছোট দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে কষ্ট হয়। বারেক প্রধান আমার কাছে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাইলে গরু বিক্রির টাকা থেকে প্রভাবশালীদেরকে ১০ হাজার টাকা দেই। আমার বাবা যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে আমার বাবার বিচার হোক। আমিও আমার বাবার বিচার চাই।

অভিযুক্ত জালাল প্রধান ও বারেক প্রধান বলেন, মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে এটা সঠিক। মেয়ের স্টেটমেন্ট ও বর্ণনা মতে ঘটনা সত্য। হযরত আলীর মেয়ের জামাই রফিকুলের অনুরোধে আমরা আপোষ মীমাংসার করে ১০ হাজার টাকা মেয়ের দাদিকে দিয়েছি। মেয়েকে বাপের বাড়িতে অথবা স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের কাশিজুলী (নতুন বাজার) এলাকার সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মনোয়ারা বলেন এরকম কোন ঘটনা তিনি জানেন না।

বরমী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মাসুদ সরকার বলেন, ধর্ষনের বিষয়ে কোনো ঘটনা তার জানেন নেই।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, কাশিজুলী (নতুন বাজার) এলাকার ধর্ষণের কোনো ঘটনা তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission