মহান মে দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা না চাওয়াই প্রমাণ করে স্বাধীনতার আগে ও পরের জামায়াতে ইসলামী একই অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে নগরীর কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রিন্স বলেন, যদি তারা সত্যিই পরিবর্তিত হয়ে থাকে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে, তাহলে একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা ও পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছে না কেন?
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনকল্যাণে ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল শ্রমজীবী মানুষ পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারিত হবে।
প্রিন্স জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিল-কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটলেই দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে।
ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু সাইদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিদুল হক মোহনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওহাব আকন্দ এমপি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার এবং উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাবন্দি থাকা শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এসএস




