নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী তক্ষকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টোল প্লাজা সংলগ্ন চেকপোস্ট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার খাইরিয়াল খুটির এলাকার মো. খায়রুল ইসলাম (৪৬) এবং কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার বড়ধনপুর এলাকার সিদ্দিকের স্ত্রী তানজিনা (৩৫)।
ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে আদালত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬-এর ১০ ধারা অনুযায়ী ৪৪(১) ধারায় তাদেরকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান জানান, চট্টগ্রামের লালমাই পাহাড় এলাকা থেকে একটি জীবিত তক্ষক বাসযোগে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি জীবিত তক্ষক উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত তক্ষকটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানকালে সোনারগাঁ জোনের বন কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফসহ সোনারগাঁ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তক্ষক সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, তক্ষক (Gecko) গিরগিটি প্রজাতির র্নিবিষ নিরীহ বন্যপ্রাণী। সাধারণত পুরনো বাড়ির ইটের দেয়াল, ফাঁক-ফোকড় ও বয়স্ক গাছে এরা বাস করে। কীটপতঙ্গ, টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপের বাচ্চা খায়। আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকা অনুযায়ী এটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী।
তিনি আরও বলেন, তক্ষকের দাম ও তক্ষক দিয়ে তৈরি ওষুধ নিয়ে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর গুজবে বিশ্বাস করে এক শ্রেণির লোকেরা রাতারাতি ধনী হবার স্বপ্নে তক্ষক শিকারে নেমেছে। মূলত ব্যাপক নিধনই তক্ষক বিলুপ্তির প্রধান কারণ। তক্ষক দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ওষুধের উপকারিতা নিয়ে যা শোনা যায়, বৈজ্ঞানিকভাবে তার কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও এই গুজবটির কারণেই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।
আরটিভি/এমএইচজে




