নওগাঁর মহাদেবপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় প্রায় ৭০ বিঘা জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে রোববার (৩ মে) দুপুরে উপজেলা চত্বরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান হাতে নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষকরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের রানতৈর ও খাজুর যৌথ মৌজায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ইব্রাহীম সরকারের মালিকানাধীন ‘সরকার অ্যান্ড সন্স’ ইটভাটা বন্ধের সময় নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে রানতৈর ও খাজুর মৌজায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠের ধানের শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ধানের ভেতরে কোনো চাল নেই, বরং দানাগুলো কুঁচকে কালো দাগ হয়ে ঝরে পড়ছে।
কৃষকদের দাবি, প্রায় ১০০ জন প্রান্তিক চাষির সারা বছরের আহার ও মহাজনের ঋণের টাকা পরিশোধের স্বপ্ন এখন ধুলোয় মিশে গেছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, ফসলি জমির মাঝখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এই ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রতি বছরই পরিবেশের ক্ষতি হয়। তবে এবার ভাটা বন্ধের সময় হঠাৎ নির্গত বিষাক্ত গ্যাস মাঠের ধানের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। তারা অবিলম্বে এসব ভাটা বন্ধ এবং দ্রুত সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে 'সরকার অ্যান্ড সন্স' ইটভাটার মালিক ও উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ইব্রাহীম সরকার মুঠোফোনে বলেন, কৃষকদের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।
তার দাবি, গত বছরও কৃষকরা একইভাবে অন্য একটি ভাটা থেকে জরিমানা আদায় করেছিল। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের আশায় দিন গুনছেন।
আরটিভি/এমএইচজে




