ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও ধানের কম দামের কারণে অনেক কৃষক ধান কাটতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদের মাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হলেও অনেক কৃষক এখনও মাঠে নামছেন না।
উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আগে কাটা ধান শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। কোথাও সিদ্ধ করা ধান শুকাতে না পেরে পচে যাচ্ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আবার কোথাও পাকা ধান এখনও মাঠে পড়ে আছে, যা যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাদৈর ইউনিয়নের বাদৈর গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, আগে যে ধান কেটেছি, সেটাই ঠিকমতো শুকাতে পারছি না। এখন আবার নতুন করে ধান কাটলে আরও ক্ষতি হবে। তাই বাধ্য হয়ে ধান কাটতে দেরি করছি।
মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, এক মণ কাঁচা ধানের দাম মাত্র ৭০০ টাকা। এই দামে ধান বিক্রি করে খরচই ওঠে না। তাই ধান কেটে লাভ না থাকায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, আগে কাটা ধান শুকাতে না পারায় নতুন করে ধান কাটলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে ধান চাষের প্রতি আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
এদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রুত ধান কাটা না গেলে মাঠের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানিয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মসজিদের মাইকে সচেতনতামূলক ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।
আরটিভি/এমএইচজে



