রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চালক সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা ও স্বজনরা। জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বাধ্য হয়ে গুনতে হচ্ছে তিনগুণ ভাড়া।
রাজবাড়ী সদর আড়াইশ শয্যা হাসপাতাল জেলার বড় হাসপাতাল। এখানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি, কিন্তু চালক আছেন মাত্র একজন। চালকের জন্য রয়েছে দুটি পদ। দুই বছর আগে একজন চালক অবসরে গেছেন, তারপর থেকে একজন চালক একাই সামলাচ্ছেন সব দায়িত্ব।
সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্যারেজে পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের কোনোটিতে জমেছে ধুলো আর মাকড়শার জাল, কোনোটির টায়ার থেকে বেরিয়ে গেছে হাওয়া। নতুন ভবনের সামনে রোগী বহন করার জন্য একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স চালক মাসুদ বলেন, জেলা সদর হাসপাতালে আগে আমরা দুইজন চালক ছিলাম। এখন আমি একাই আছি। একা সব রোগী বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে যাওয়া-আসা মিলিয়ে আট ঘণ্টা লেগে যায়। ফিরে এসেই আবার রোগী বহন সম্ভব হয় না।
এদিকে, রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও রয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। ২০২৩ সালে চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে গ্যারেজে। এতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু নিয়োগ মিলছে না নতুন চালকের।
একই করুণ চিত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চালকও ছিলেন একজন। তবে চালক তিন বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি গ্যারেজেই পড়ে আছে। ফলে পাংশা উপজেলার রোগীদের এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী ড্যাব সভাপতি ডা. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, অথচ চালকের অভাবে সেটি পড়ে থাকছে। আর রোগীদের তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি গাড়িতে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দেখা উচিত।
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি, কিন্তু চালকের পদ মাত্র দুইটি। একজন অবসরে গেছেন। একজন চালকের পক্ষে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ বলেন, শুধু অ্যাম্বুলেন্সের চালক নয়, অনেক কিছুরই সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
আরটিভি/এমএম




