গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাগমারা (কলেজপাড়া) এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৪ মে) ভোর রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘন্টার বৃষ্টিতে ওই এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোমর সমান পানি জমে যওয়ায় দুই শতাধিক পরিবারের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) বেলা ১২ টার দিকে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌরসভার প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া ও পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আকতার ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতায় দুই শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে আছেন। বর্ষা মৌসুমে তাদের বানভাসির মতো বসবাস করতে হয়। এলাকার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনপ্রতিনিধি ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এ দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি চান।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া জানান, সামান্য বৃষ্টিতে ঘরের আঙ্গিনা উপচে কয়েকটি পানি ঢোকে। কোনো কাজে বাইরে গেলে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চার বছর ধরে জলাবদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে।
গৃহিনী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত চার বছর ধরে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বানভাসির মতো বসবাস করছেন। জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে বহুবার পৌরসভাসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। দীর্ঘ সময় ধরে পানি থাকায়, অনেকের হাত-পায়ে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
ষাটোর্ধ্ব জুলফিকার জানান, পানি জমে থাকার কারণে বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করা করা যায় না। ঘরে পানি ওঠার কারণে সকাল থেকে এখনো চুলায় রান্না বসানো হয়নি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে আছি।
তিনি আরও জানান, কোমর সমান পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যেত পারছে না।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আখতার জানান, আপাতত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামীকালকে ইনশাল্লাহ কাজ শুরু হবে। ড্রেন এবং কালভার্ট বন্ধ করা একটা বেআইনি কাজ। আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।
দ্রুত সময়ের মধ্যে পলাশতলার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌরসভার প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের জন্য আপাতত একটা ড্রেনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পরে পানি সরে গেলে যত দ্রুত সম্ভব সড়কের এ পাশ থেকে অপর পাশে একটা পাকা ড্রেন করে দেওয়া হবে যেন পানি যেতে পারে। ওই এলাকার পানি সরাতে ইতিমধ্যে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা কাজ করছেন। তাছাড়া পৌরসভার যেসব স্থানে পানি আটকে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আরটিভি/এমএম




