বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় জিন তাড়ানোর কথা বলে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত রেজাউল করিম নামাজগড় এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, তাদের মেয়ে রাজশাহীর একটি কওমি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা উপশমের জন্য গত রোববার (৩ মে) পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়েকে রেজাউলের দাওয়াখানায় নিয়ে যান তার বাবা।
সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত রেজাউল দাবি করেন, কিশোরীর ওপর ‘জিনের আসর’ রয়েছে। ঝাড়ফুঁকের নামে চিকিৎসার অজুহাতে তিনি কিশোরীকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। সেখানেই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন বিকেলে আরও চিকিৎসার কথা বলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পুনরায় আসতে বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে গেলে আবারও একই কায়দায় কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ওই কবিরাজ। পরে ভুক্তভোগী কিশোরী কাঁদতে কাঁদতে পরিবারের কাছে সব প্রকাশ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয় এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ভণ্ডামির আড়ালে এমন পাশবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এসকে




