গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ব্যাংকে ডিপিএস খোলার কথা বলে নববধূর কাছ থেকে কৌশলে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাজী, স্বামী, শ্বশুর ও দুই সাক্ষীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অভিযুক্ত পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া, তার বাবা ইসমাইল হোসেন, কাজী আব্দুল হামিদ এবং মামলার দুই সাক্ষী।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর সাদুল্লাপুর উপজেলার কচুয়াপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে চাম্পা খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার বিয়ে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় চাম্পা খাতুনকে ব্যাংকে ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ফোনে জানানো হয় যে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে।
চাম্পা খাতুন অভিযোগ করেন, স্বামী কুদ্দুস মিয়া, শ্বশুর ইসমাইল হোসেন, স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য এবং সাজ্জাদ হোসেন নামে এক কথিত কাজীর উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে ওই স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, সেগুলো ব্যাংকের কাগজ নয়, বরং তালাকনামা ছিল।
ঘটনার পর দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন চাম্পার বাবা চাঁন মিয়া। পরে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট কাজী, স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজী ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে বা তালাকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরটিভি/এসকে



