ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভোলায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশনে ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক গাইনি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, গাইনি চিকিৎসক ডা. আখির অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গর্ভে সন্তান রেখেই মৃত্যু হয়েছে জান্নাত নামে ওই নারীর। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত জান্নাত চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাশেম খন্দকারের স্ত্রী।

পরিবার জানায়, বুধবার (৬ মে) দুপুরে প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে দ্রুত চরফ্যাশন পৌর শহরের ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত গাইনি চিকিৎসক ডা. আখি রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দেন এবং তার শরীরে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কিংবা উন্নত হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসা চলার পর জান্নাতের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বিকেল ৩টার দিকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এই মৃত্যুকে চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনার পর থেকেই ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষ ও চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। যদি কারও অবহেলায় একজন মা ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রসূতি জান্নাতের ভাই রুবেল বলেন, আমার বোনকে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়েছিলাম। ডাক্তার বারবার বলছিল সব ঠিক আছে। পরে যখন অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, তখন আমাদের ভোলা সদর হাসপাতালে নিতে বলে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডাক্তার আখির ভুল চিকিৎসায় আজ আমার বোনকে হারালাম। এই ডাক্তারকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ বলেন, আমি খবর পেয়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার ফোর্স নিয়ে গিয়েছি। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টিকটক করায় মায়ের শাসন, রান্নাঘরে গিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিলো মাদরাসাছাত্রী
টিকটক করতে বাঁধা দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে এক মাদরাসাছাত্রী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 
টিকটক করায় মায়ের শাসন, রান্নাঘরে গিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিলো মাদরাসাছাত্রী
মৃত্যুর গুজবে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গ্রামের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
মৃত্যুর গুজবে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবসে মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
করব সমবায়, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।
৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবসে মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। 
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯
হিমাগারে আলুর কেজি ১১ টাকা, তবুও নেই ক্রেতা
হিমাগারে পড়ে আছে হাজার হাজার টন আলু। অথচ ক্রেতা নেই। বাধ্য হয়ে প্রতি কেজি ১১ থেকে ১২ টাকায় আলু বিক্রি করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হিমাগারে সংরক্ষণ করতেই কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি।  উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০ টাকারও বেশি। ফলে কম দামে আলু বিক্রি করেও লোকসান কমাতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামের ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত পড়ে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় শুরু থেকেই বাজারে চাপ ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খালি বস্তার সংকট ও বাড়তি দাম এবং হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি। দাম বাড়বে—এমন আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার পরিবর্তে ক্রমেই কমতে থাকে। এখন ঋণ, বস্তা ও হিমাগার ভাড়ার দায় মেটাতে গিয়ে অনেককে উল্টো নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে।   হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, ভালো দামের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন যে দাম, তাতে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া, বস্তা ও অন্যান্য খরচ যোগ করে আরও বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, এ অঞ্চলে আলুর উৎপাদন বেশি। কিন্তু একসঙ্গে এত আলু বাজারে আসায় দাম পড়ে গেছে। এখন হিমাগার থেকে আলু বের করার জন্য কৃষকদের চাপ বাড়ছে, অথচ পাইকারের দেখা মিলছে কম। রোকন মিয়া বলেন, ১১-১২ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করে কৃষকের কোনো লাভ নেই। অনেকে ঋণ করে আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ করেছেন। দ্রুত দাম না বাড়লে তাঁদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে। বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাঁদের হিমাগারে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন আলু অবিক্রীত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এখানে উৎপাদন বেশি হয়। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। এ কারণে কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি আলু উৎপাদিত হওয়ায় তখন দাম কমে যায়।  তিনি বলেন, বর্তমানে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারদর বাড়ানো সম্ভব হলে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। আরটিভি/এসআর
হিমাগারে আলুর কেজি ১১ টাকা, তবুও নেই ক্রেতা
আরও পড়ুন
অভাবের তাড়নায় স্ত্রীকে ভাড়া দিলেন মিজান! অতঃপর...
চরফ্যাশন পৌরসভার প্রবেশমুখের ময়লার ভাগাড় এখন গ্রিন জোন
প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, ‘যুবক উধাও’
চরফ্যাশনের ১১ কলেজে এইচএসসির ফলাফলে ধস