ভোলার চরফ্যাশনে ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক গাইনি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, গাইনি চিকিৎসক ডা. আখির অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গর্ভে সন্তান রেখেই মৃত্যু হয়েছে জান্নাত নামে ওই নারীর। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত জান্নাত চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাশেম খন্দকারের স্ত্রী।
পরিবার জানায়, বুধবার (৬ মে) দুপুরে প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে দ্রুত চরফ্যাশন পৌর শহরের ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত গাইনি চিকিৎসক ডা. আখি রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দেন এবং তার শরীরে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কিংবা উন্নত হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসা চলার পর জান্নাতের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বিকেল ৩টার দিকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এই মৃত্যুকে চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনার পর থেকেই ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষ ও চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। যদি কারও অবহেলায় একজন মা ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রসূতি জান্নাতের ভাই রুবেল বলেন, আমার বোনকে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়েছিলাম। ডাক্তার বারবার বলছিল সব ঠিক আছে। পরে যখন অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, তখন আমাদের ভোলা সদর হাসপাতালে নিতে বলে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডাক্তার আখির ভুল চিকিৎসায় আজ আমার বোনকে হারালাম। এই ডাক্তারকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ বলেন, আমি খবর পেয়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার ফোর্স নিয়ে গিয়েছি। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



