যশোরের ভবদহ অঞ্চলে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার শিকার ১০ লাখেরও বেশি মানুষের দুর্ভোগ এবার লাঘব হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের ৬টি নদীর পুনঃখনন কাজের ৫৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম আব্দুল মোমিন জানান, প্রতিদিন ১শ’টিরও বেশি এস্কেভেটর (খনন যন্ত্র) দিয়ে ৬টি নদীর তলদেশ খনন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ১০৯টি এবং ৪ মে ১১২টি এস্কেভেটর দিয়ে খনন কাজ পরিচালনা করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বরত আব্দুল মোমিন আরও জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নদীগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ খনন কাজ শেষ হবে। বাকি কাজ শেষ হতে আগামী বছর জুন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বছরের ভারী বৃষ্টিপাত এবং সাম্প্রতিক ডিজেল সংকটের কারণে খনন কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে যশোর সেনানিবাসের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ওই অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।
যশোর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্স-এন) পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভবদহ এলাকায় নতুন করে পানি জমার আশঙ্কা খুবই কম।
তিনি বলেন, এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ৬টি নদীর পুনঃখনন প্রকল্পের ৮০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হবে।
এছাড়া বর্ষা শুরুর আগেই ভবদহ এলাকার ৩৩টি স্লুইস গেটের মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি সচল ও পরিষ্কারের কাজ চলছে।
পলাশ কুমার জানান, জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েক বছর আগে ভবদহের ২১ কপাটবিশিষ্ট স্লুইস গেটে ৩৫ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি সেচ পাম্প বসানো হয়েছিল। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
তিনি আরও জানান, এবার সেখানে আরও ৫টি এবং বিল খুকশিয়ার ৩ কপাট বিশিষ্ট স্লুইস গেটে আরও ৩টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসানো হবে।
পলাশ কুমার আরও জানান, উজান থেকে ভাটিতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এলাকার সব সংযোগ খাল পরিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি পাম্পগুলো সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনও স্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলার একাংশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ গত কয়েক দশক ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/এসএস



