দেশের আকাশের রহস্যময় আলোর রেখা, উৎস নিয়ে যা জানা গেল

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৯:৪৮ এএম


বাংলাদেশের আকাশের রহস্যময় আলোর রেখা, উৎস নিয়ে যা জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের আকাশে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর রেখা নিয়ে তৈরি হওয়া কৌতূহলের অবসান ঘটেছে। এই আলোর সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা মূলত প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কক্সবাজারের লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় অবস্থানরত পর্যটক ও স্থানীয়রা হঠাৎ আকাশে লালচে রঙের সরু ও উজ্জ্বল একটি আলোর রেখা দেখতে পান। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই দৃশ্য দেখে সৈকতে উপস্থিত অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ এটিকে উল্কাপাত মনে করেন, আবার কেউ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা মহাকাশীয় বস্তুর প্রভাব বলে মন্তব্য করেন। তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘটনাটি আবহাওয়াজনিত কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

আরও পড়ুন

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, একই সময়ে ভারতের ওডিশা উপকূলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয়। সেই ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর রেখাই বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের উপকূলীয় কিছু অঞ্চল থেকে দেখা গেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করেনি।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) সম্প্রতি সামরিক প্রযুক্তিতে বেশ কিছু বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তারা সাধারণ বা ‘ডাম্ব’ ওয়ারহেডকে অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তরের প্রযুক্তি অর্জনের পাশাপাশি ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ আর্মামেন্ট’ বা ‘টারা’ নামের কম খরচের একটি গ্লাইড অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ডিআরডিও চেয়ারম্যান সামির ভি কামাথ কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন, ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ভারতের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’-এর পরীক্ষার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিশাল একটি আকাশসীমায় ‘নোটাম’ জারি করে সতর্কতা সংকেত দিয়েছিল ভারত সরকার। প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই করিডরটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার লক্ষ্যেই সীমিত করা হয়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রটি এমআইআরভি প্রযুক্তিসম্পন্ন হতে পারে, যা একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আলাদা আলাদা ওয়ারহেড নিক্ষেপ করতে সক্ষম। গত এক বছরে ভারত ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘপাল্লার ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে, যারই প্রতিফলন দেখা গেল কক্সবাজারের আকাশে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission