ভোলার চরফ্যাশনে ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে ফিল্মি স্টাইলে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের মামলায় হাসনাইন (২১) ও মেহেদী হাসান (২৬) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে তাদের কুয়াকাটার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় মামলা করেছেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে চরফ্যাশন চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফজাল হোসেন তাদের হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সালাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে জাবেদ (২৫), সালাউদ্দিন মেম্বার (৫৫), ইউসুফের ছেলে মেহেদী হাসান (২৬) ও সিরাজ বেপারীর ছেলে হাসনাইন (২১)।
এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত কলেজছাত্রী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ফাতেমা মতিন মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে জাবেদ নামে এক যুবক তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি পরিবার জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে তাকে সতর্ক করলেও তিনি বিরত হননি। পরে অভিযুক্ত জাবেদের পরিবার কলেজছাত্রীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৬ মে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিআরডিবি মোড় এলাকায় পৌঁছালে জাবেদ ও তার সহযোগীরা একটি মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে তুলে নেন। পরে তাকে ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে কুয়াকাটায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অপহৃত ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়েকে অপহরণ করে কুয়াকাটা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সে কৌশলে অপহরণকারীদের ফোন থেকে আমাদের বিষয়টি জানায়। এরপর আমরা চরফ্যাশন থানায় মামলা করি। পরে পুলিশ মহিপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় কুয়াকাটার একটি হোটেল থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের আদালতে নেওয়া হলে আদালত হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরটিভি/এমএইচজে



