কুমিল্লার মেঘনায় জমির ওপরে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. নাছির নামে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে খুঁজছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার স্থানীয় আবদুল বাতেনের ছোট ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল বাতেনের জমির মাঝ দিয়ে চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। এতে জমির মালিক বাতেন তাকে বলেন, রাস্তা নিতে বাধা নেই, তবে জমির মাঝ দিয়ে না নিয়ে এক পাশ দিয়ে নিতে হবে। এতে ক্ষেপে যান নাছির। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা মীমাংসা করে দিলেও এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি।
শুক্রবার রাতে দেলোয়ার তার পুরাতন বাড়ি থেকে নতুন বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নাছির ও তার সহযোগীরা দেলোয়ারকে ধরে এলোপাতাড়ি কোপান। এসময় দেলোয়ারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন এবং মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু দেলোয়ারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(ঢামেক) পাঠানো হয়। কিন্তু, সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, রাস্তা নির্মাণ নিয়ে আবদুল বাতেন ও নাছিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হলে নাছির ক্ষিপ্ত হন। বিষয়টি জানার পর আমি মীমাংসা করে দেই। তারপরও নাছির থামেননি। শেষ পর্যন্ত দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তিনি।
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, বাতেন নামে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) আমি ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। অভিযোগকারীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা হচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেননি। তবে, অভিযুক্ত নাছিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এছাড়া, দেলোয়ারের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরটিভি/এমএস




