পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের তিল্লা গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধে রাতের আঁধারে একটি পারিবারিক কবরস্থানের গাছপালা ও সীমানা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কবরস্থানের সীমানা নির্ধারণ করা জালের বেড়া ও সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। কাটা হয়েছে গাছপালা, এমনকি কবরের মাটিও আঁচড়ানো হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে শাকিল মৃধা এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার (৮ মে) রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন কবরস্থানে প্রবেশ করে এ ভাঙচুর চালায়।
তিনি জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তাদের ভোগদখলে থাকা ১১ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ। এই জমির একাংশে পারিবারিক কবরস্থানটি অবস্থিত। সেখানে তার বাবা আবু আল কাশেম মৃধা, চাচা ইসহাক মৃধা, ইদ্রিস মৃধাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য শায়িত আছেন।
তার দাবি, তিল্লা মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৭৭৪-এ তার বাবা ও চাচাদের নামে জমিটির রেকর্ড রয়েছে। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি হলেও স্থানীয় ছত্তার খলিফা, সাইদুল খলিফা ও মিজানুর খলিফার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। কবরস্থানের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাকিলের চাচাতো ভাই ও জমির অংশীদার শহিদুল ইসলাম, মিজানুর মৃধা ও মোহাম্মদ মৃধাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত ছত্তার খলিফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিজমা বিরোধ নিয়ে সালিশ হওয়ার কথা ছিল। কয়েকদিন আগে তারা হঠাৎ করে কবরস্থানের জমিতে জালের বেড়া দেয় এবং আজকে এ ঘটনা শুনি। এখন ওরাই (অভিযোগকারীরা) ভাঙচুর করে উল্টো আমাদের হয়রানি করবে। ঘটনার দিন সাইদুল গলাচিপায় ছিল।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে এসআই সোহেল রানাকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




