চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের দু-পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ ১১ বছরের শিশু রেশমির জ্ঞান চার দিনেও ফেরেনি। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা এই শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তার বাঁ চোখ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কের ভেতরে মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
গুলিটি মস্তিষ্কের এমন একটি বিপজ্জনক স্থানে আটকে আছে যে, অস্ত্রোপচার করতে গেলে জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকরা একপ্রকার আশা ছেড়ে দিয়ে এখন অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় আছেন। তাদের মতে, ‘এখন আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
রেশমি আক্তার বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে সবার ছোট। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মায়ের জন্য পান আনতে গিয়ে সে গোলাগুলির মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় হাসান রাজু (২৪) নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
চমেক হাসপাতালে রেশমির শিয়রে চার দিন ধরে নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ। বোনের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘বারবার ডাকার পরও আদরের বোনটি কোনো সাড়া দিচ্ছে না। মা বারবার ফোন করে মেয়ের অবস্থা জানতে চাইছেন, তাকে কীভাবে বলি রেশমি ভালো নেই!’ বাবা রিয়াজ আহমেদও কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছেন, ‘চার দিন আগে শেষবারের মতো রেশমি আমাকে বাবা বলে ডেকেছিল। কার কাছে এই ঘটনার বিচার চাইব?’
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। গঠন করা মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. বাকি বিল্লাহ বলেন, গুলির আঘাতে শিশুটির মস্তিষ্কের সাড়া দেওয়ার মাত্রা শূন্যে নেমেছে, রক্তচাপও নেই।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আবদুল করিম জানিয়েছেন, অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সন্ত্রাসীদের দু-গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় শিশু রেশমির সংকটাপন্ন অবস্থা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনায় আমরাও উদ্বিগ্ন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এআর




