অনিয়মের তথ্য আনতে যান দুই সাংবাদিক, অতঃপর...

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ০৮:১০ পিএম


অনিয়মের তথ্য আনতে যান দুই সাংবাদিক, অতঃপর...
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(বামে) ও বহিরাগত (ডানে)। ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশন খাদ্য গুদামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের কথা থাকলেও বাস্তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে এসব অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আরটিভি প্রতিনিধি আরিফ হোসেন ও মাইটিভি প্রতিনিধি শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন নিজেই বাচ্চু নামের এক বহিরাগত ব্যক্তিকে গুদামে ডেকে আনেন। পরে ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত কৃষকদের তথ্য যাচাই করতে সরেজমিনে গিয়ে একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা জানান, তালিকায় নাম থাকলেও তারা কেউ চরফ্যাশন খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেননি। অথচ সরকারি কাগজপত্রে তাদের নাম ব্যবহার করে ধান সংগ্রহ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

চরফ্যাশন খাদ্য গুদামের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ২২৪ জন কৃষক কার্ডধারীর কাছ থেকে মোট ৬৭২ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৪ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে রোববার খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। তবে তার কার্যালয়ে আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যিনি নিজেকে ওই কর্মকর্তার আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, গত তিন মাস ধরে তিনি খাদ্য গুদামে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন।

পরদিন সোমবার আবারও গেলে গুদাম কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন বহিরাগত বাচ্চু নামের এক ব্যক্তিকে সেখানে ডাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। পুরো ঘটনাটি সামনে ঘটলেও গুদাম কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা ঠিক হয়নি। আমি এ বিষয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলব।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission