কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রংপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্যতিক্রমী এক আবাসিক হোটেল। তবে এই হোটেলের অতিথি মানুষ নয়, গরু। সেখানে গরুর থাকা, খাবার, পরিচর্যা থেকে শুরু করে চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রংপুরের দমদমা সেতু এলাকায় দুই বছর ধরে চালু রয়েছে এই গরুর আবাসিক হোটেল। এখানে একসঙ্গে তিন শতাধিক গরু রাখার ব্যবস্থা আছে। স্থানীয় হাট থেকে গরু কেনার পর ব্যবসায়ীরা দূরের পথে নেওয়ার আগে নিরাপদে রাখছেন এই হোটেলে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানায়, গরুর জন্য আলাদা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পরিচর্যা ও রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো গরু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসাও দেওয়া হয়।
বড় ও উন্নত জাতের গরুর জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ কক্ষ। সেখানে বাড়তি যত্ন ও সেবা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ছলিম খান গণমাধ্যমকে বলেন, আগে গরু রাখার জন্য নিরাপদ জায়গা পাওয়া যেত না। এখন এই হোটেলের কারণে চুরি, বৃষ্টি ও অসুস্থতার ঝুঁকি কমেছে।
লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ী আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কম খরচে নিরাপদ সেবা পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।
ঢাকার গাবতলী হাটের ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন গণমাধ্যমকে জানান, তারা নিয়মিত রংপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে এই হোটেলে রাখেন। পরে গাড়ি পূর্ণ হলে ঢাকার পথে রওনা দেন।
এই হোটেলকে ঘিরে আশপাশে গড়ে উঠেছে গরুর খাবারের দোকান। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে।
হোটেলটির উদ্যোক্তা মোবারক আলী ভুট্টো গণমাধ্যমকে বলেন, গরু ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা চিন্তা করেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
আরটিভি/জেএমএ



