সাতক্ষীরায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। এরমধ্যে প্রায় একশ’ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ঘোষিত ‘ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী সুস্বাদু হিমসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার চারহাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। গতবছর ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন। সংগ্রহ করা হয়েছিল ৬৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আম।
গত বছরের তুলনায় এ বছর তিন হেক্টর বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ৩৮০ মেট্রিক টন বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও গতবছর সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৭২ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ মে থেকে সাতক্ষীরার সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৫ মে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম সংগ্রহের মাধ্যমে জেলার আম বাজারজাত কার্যক্রম শুরু হয়।
সাতক্ষীরা সদরের কুখরালী এলাকার আমচাষী হাফিজুল ইসলাম খোকার বাগান থেকে এবারও যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে যাচ্ছে হিমসাগর আম।
তিনি জানান, শুক্রবার (১৫ মে) তার বাগান থেকে চার টন হিমসাগর আম বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তিনি প্রতি মণ আম তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
শহরের সুলতানপুর বাজারের বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের দাম কিছুটা কম। বাজারে আমের সরবরাহও বেশি। আকারভেদে প্রতি মণ হিমসাগর আম দেড়হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ আড়াইহাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, হিমসাগর আম এখন পরিপক্ব হওয়ায় ১৫ মে থেকে চাষিরা তা বাজারজাত করতে পারছেন। এ ছাড়া আগামী ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারজাত করা যাবে।
তিনি আরও জানান, এ বছর জেলায় ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একশ’ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির আশা করা হচ্ছে।
জেলা থেকে এবার চারশ’ কোটি টাকার বেশি আম বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা জেলায় ৫ হাজার ৩৫০টি আম বাগান রয়েছে। জেলায় ১২ হাজার পাঁচশ’ জন আম চাষি রয়েছেন।
তিনি জানান, আবহাওয়া, মাটির গুনাগুন ও ভৌগলিক কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম আগে পাকা শুরু হয়।
ভোক্তাদের কাছে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/আইএম




