শিশুর মৃত্যু, স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের তুলকালাম

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০৬:০৩ পিএম


শিশুর মৃত্যু, স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের তুলকালাম
এক শিশুর মৃত্যু ঘিরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মৃত শিশুর স্বজনদের তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। 

এ ঘটনায় শিশুটির এক স্বজনসহ দুইজনকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা মারধর করে আটকে রাখেন। পরে হাসপাতাল পরিচালক, মেডিকেল কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্ষমা চেয়ে- মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পায় আটকে থাকা দুই ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (২০ মে) রাত ১১টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারের বাসিন্দা উজ্জল দের ৭ দিনের কন্যা সন্তান অসুস্থ হওয়ায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মৃত্যুর পরপরই স্বজনরা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তোলেন, যা নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বাগবিতণ্ডাও হয়। এর কিছুক্ষণ পরে মেডিকেল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী এসে জয়দেব নামে ওই শিশুর এক স্বজনকে মারধর করেন, সেই ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামুন নামে আরেক যুবক মারধরের শিকার হন। পরে তাদের হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

যদিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শেবাচিমের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী শান্তা তালুকদার বলেন, মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সকালে ও বিকেলে ওয়ার্ড থাকে এবং এর ওপর আইটেম থাকে। আইটেম দিয়ে বের হওয়ার সময় মৃত শিশুর বাবা তার স্বজনদের বলেন আমাদের আটকে রাখতে। তার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার জন্য শিশু সন্তানটি মৃত্যুবরণ করেছে।

তিনি বলেন, মৃতের স্বজনরা আমাদের আটকানোর চেষ্টাকালে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাপ্রোন ও ব্যাগ ধরে টান দেন। সেইসঙ্গে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সদেরও হেনস্থা করেন।

অপর শিক্ষার্থী মুনায়াত মুন বলেন, নবজাতক ওয়ার্ডের পাশে আমাদের একটি শ্রেণিকক্ষ আছে, যেখান থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোলের বিষয়টি শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে সেখান থেকে যাওয়ার সময় একটা লোক আমাদের কারও হাত, কারও ওড়না, আবার কারও ব্যাগ ধরে টান দেন এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন। এরপর আমরা আত্মরক্ষার্থে সেবিকাদের সহায়তায় একটা কক্ষে আশ্রয় নেই। এরপর আমাদের দুই ছেলে ব্যাচমেট এসে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তাদের মোবাইল ভাঙচুর করেন। পরে ইউনিফর্ম লুকিয়ে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে আসি।

তবে শিশুর বাবা উজ্জল জানান, সন্ধ্যার পরে তার সন্তানের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে যান তারা। ওইসময় রুমে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ছিলেন, তারা এসে শিশুকে মৃত ঘোষণা করলে তার মামা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়ে। এ সময় তিনি ইন্টার্ন চিকিৎসকেদর ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করলে তাকে এবং অপর আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।

মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস বলেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তার মামা হয়তো মুখে কিছু বলেছে, কিন্তু কারও গায়ে হাত দেননি। তারপরও তাকে শিক্ষার্থীরা মারতে মারতে নিচে নিয়ে গেছে। যদি আমার ভাই কোনো ভুল করে থাকে, তাহলে আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি, আমাদের মাফ করে দেন। রাত ১ টা পর্যন্ত এখানে মৃত সন্তানকে নিয়ে বসে আছি, আমাদের যেতে দিন।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা শিশুটির মামাসহ দুজনকে আটকে রাখার খবরে হাসপাতাল পরিচালক ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আটক দুজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সেইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, বিষয়টি উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করা হয়েছে। আমরা চাই এখানে যারা পড়ালেখা করছে, তারা যেন স্বাভাবিকভাবে ইউনিফর্ম পরে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সেইসঙ্গে রোগীদেরও যেন ঠিকভাবে চিকিৎসা হয়। সমস্যা আমাদের অনেক রয়েছে, ধীরে ধীরে সমাধান করতে হবে এবং ধৈর্য্য ধরতে হবে।

আরও পড়ুন

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা জানিয়েছেন, ছাত্র আর রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ যাদের কাছ থেকে পাব, তার সূত্র ধরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission