ভোলার চরফ্যাশনে হাফিজিয়া মাদরাসার এক শিক্ষকের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) উপজেলার শশীভূষণ থানা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা ছাহেদ উদ্দিন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার রসূলপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফরিদ হাওলাদারের ছেলে নোমান এবং ওবায়দুল হকের ছেলে মোহাম্মদ শরীফ। গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ স্থানীয় মুসলিম ফরাজির ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর এলাকার মোহাম্মাদিয়া মাকজানুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার কয়েকজন ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল অভিযুক্তরা। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ছাহেদ উদ্দিন। এরপর থেকেই তার ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মে মাদরাসার এক ছাত্রী ওই শিক্ষকের কক্ষে হাতের লেখা দেখাতে গেলে অভিযুক্তরা বিষয়টি দেখে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। পরে শিক্ষকের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইসঙ্গে, অভিযুক্তরা শিক্ষকের একটি হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেল, একটি টাচ মোবাইল ফোন, একটি বাটন ফোন ও একটি রাউটার নিয়ে যায়। পরদিন শিক্ষকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে তার নিয়ে যাওয়া সামগ্রী ফেরত দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত ১৯ মে সকালে সালিশ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাওলানা ছাহেদ উদ্দিন বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। পরে বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত জিহাদকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
আরটিভি/এসএস




