ঢাকার ধামরাইয়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চার দশকেও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কমপ্লেক্স ভবনটি এখন মাদকসেবী ও বিষাক্ত সাপের অভয়ারণ্য।
মালিকপক্ষ বলছে, সরকার এগিয়ে এলে জনগণের সেবায় হাসপাতালটি চালু করতে আগ্রহী তারা। এলাকাবাসীর দাবি, অচিরেই হাসপাতালটি চালু করা হোক, হাসপাতালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার ধামরাই ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সীমান্তবর্তী পাইকপাড়া ও ওয়ার্শী নামক দুই গ্রামের প্রায় ১৬ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক স্থাপত্যে শৈলীতে নির্মিত অসমাপ্ত এক হাসপাতাল কমপ্লেক্স। মেডিকেল হাসপাতাল কমপ্লেক্সটির অধিকাংশ জায়গা জুড়েই নির্মাণ করা হয় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল, মসজিদ ও দৃষ্টিনন্দন পুকুর।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৫ সালে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে ইউনুস খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শিল্পপতি ইকবাল খানের বাবা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর ক্যান্সার হাসপাতাল হিসেবেই এখানে কাজ শুরু হয়। কিন্তু টানা ২০ বছর ধরে অধিকাংশ কাজই সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে থেমে যায় নির্মাণ কাজ।
প্রতিষ্ঠানটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, খান মোহাম্মদ ইকবাল সাহেবের বাবা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাকে চিকিৎসা করতে বিভিন্ন দেশে নিতে হয়েছে। তাই অসুস্থ্য অবস্থায় ছেলেদের বলেন একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মানের কথা। যাতে বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসা সেবা পায়। প্রয়াত বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেন খান মোহাম্মদ ইকবাল।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে প্রধান উদ্যোক্তা শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুর পর পুরো প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। সরকার বা কোন ব্যাক্তি যদি হাসপাতাল নির্মানের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে মালিক পক্ষ রাজি আছে।
কলেজ পড়ুয়া অনীক বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে শুধু ধামরাই না আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ উপকারভোগ করতে পারবে বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে এখানে বন জঙ্গল হয়ে আছে যা আমাদের কোন কাজে লাগছে না।
মেডিকেল স্টুডেন্ট জহির আহমেদ পাপন বলেন, ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ হাসপাতালটি সম্পূর্ণ হলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর -চার জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এখন তো এখানে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে তা কোন কাজেই আসছে না।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন বলেন, চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে নির্মানাধীন এই প্রকল্পটি একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে শুরু করেছিলেন। উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর থেমে যায় সবকিছু। এই প্রকল্প নিয়ে আমরা ডিসি অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। যাতে এই হাসপাতালটি চালু করা যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
আরটিভি/এসএস



