৩৭ লাখ টাকা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০২:৫৭ পিএম


৩৭ লাখ টাকা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী!
ছবি: আরটিভি

ঝিনাইদহে স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে তাকে তালাক না দিয়েই অন্যত্র বিয়ে এবং প্রায় ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী স্বামী আদালতে একটি মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার বিবরণ ও নথি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পার্কপাড়ার আবুবক্কর খাঁর ছেলে কুয়েতপ্রবাসী শাহিন খান লিটুর সঙ্গে অভিযুক্তের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী উচ্চাভিলাষী চাহিদা পূরণ, পড়াশোনার খরচ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ যাবতীয় ভরণপোষণ স্বামী লিটু দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী লিটুর অভিযোগ, তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী প্রতারণার আশ্রয় নেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত স্ত্রী স্বামী শাহিন খান লিটুকে তালাক দেন; তবে সেই নোটিশ দীর্ঘদিন গোপন রাখেন এবং ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তা প্রেরণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তালাক প্রদান ও নোটিশ প্রাপ্তির মধ্যবর্তী সময়েও তিনি কৌশলে প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে আরও কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি বাদীর।

আইনগত জটিলতা আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আগের তালাকটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই অভিযুক্ত দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করা হয় (মামলা নম্বর: ৩৬৬/২৫)।

ভুক্তভোগী বলেন, আমি বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেছি। বিশ্বাস করে সব টাকা স্ত্রীর কাছে রেখেছিলাম। কিন্তু সে সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমার সংসার তছনছ করে দিয়েছে, আমার জীবনের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। আমি আদালতের কাছে এই প্রতারণার সঠিক বিচার চাই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কে. এম. ফুরকান আলী জানান, আমরা আসামির বিরুদ্ধে সব তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছি। আইন লঙ্ঘন করে তালাক কার্যকর হওয়ার আগেই দ্বিতীয় বিয়ে এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা আশা করি, আদালত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান জানান, প্রবাসে যাওয়ার পর থেকেই শাহিন তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এক পর্যায়ে বাধ্য শাহিনের স্ত্রী বৈধ পন্থায় তালাক দেন এবং আইন মেনেই অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তারা আদালতে সব তথ্য-প্রমাণ দাখিল করেছেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন।

তালাক কার্যকর হওয়ার পূর্বেই দ্বিতীয় বিয়ে এবং প্রবাসীর বিপুল অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ঝিনাইদহ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission