ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে প্রথম ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ইসলামপুর বাজার রেলস্টেশন থেকে ২৫টি ওয়াগনে প্রায় ৪০০ গরু নিয়ে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, এবার জামালপুর জেলা থেকে মোট তিনটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন ঢাকায় যাবে। ৭৫টি ওয়াগনে প্রায় ১২০০ গরু পরিবহন করা হবে। এর মধ্যে দুটি ট্রেন শুক্রবার এবং শেষ ট্রেনটি শনিবার বিকেলে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা বলছেন, ট্রেনের মাধ্যমে পশু পরিবহন করলে খরচ কম হয়, পাশাপাশি সড়কপথের যানজট, দুর্ঘটনা ও চাঁদাবাজির ঝুঁকিও এড়ানো যায়।
গরু ব্যবসায়ী মন্টু মিয়া বলেন, প্রতিবছরই গরু নিয়ে ঢাকায় যাই। ঢাকায় গরুর দাম ভালো পাওয়া যায়। প্রতি গরুতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি পাওয়া সম্ভব।
খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রাকে গরু নিলে ভাড়া বেশি লাগে, ঝাঁকুনি ও দুর্ঘটনার ভয় থাকে। ট্রেনে এসব ঝামেলা নেই, নিরাপত্তাও ভালো।
আরেক ব্যবসায়ী জাবের আহাম্মেদ জানান, ট্রাকে ১৫ থেকে ২০টি গরু নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে ট্রেনে ১৬টি গরু নিতে একটি ওয়াগনের ভাড়া মাত্র ৮ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রতি গরু পরিবহনে খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ টাকা।
তবে ব্যবসায়ীরা ঢাকায় অবিক্রিত গরু ফেরত আনার জন্য ফিরতি ক্যাটল ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। গরু ব্যবসায়ী সেলিম মণ্ডল বলেন, সব গরু বিক্রি না হলে কম দামে বিক্রি করতে হয়। ফিরতি ট্রেন থাকলে লোকসান কম হতো।
রেলওয়ে জানিয়েছে, জামালপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়াগনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা এবং প্রতি ওয়াগনে সর্বোচ্চ ১৬টি গরু পরিবহন করা যাচ্ছে।
ইসলামপুর বাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, ক্যাটল ট্রেনের প্রতি খামারি ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ট্রেনের সব ওয়াগন আগেই বুক হয়ে গেছে। আরও ট্রেন চালু করা হলে সেগুলোও পূর্ণ হয়ে যেত।
আরটিভি/এসকে




