ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। এতে যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ অবস্থায় যানজট নিরসন, যাত্রী ভোগান্তি রোধ এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই মহাসড়কে সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করেছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২শত টাকা।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সেতুর উপর রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি। এছাড়া চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল আরো বাড়ানো হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার (২৫ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭শত টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫শত টাকা।
সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদ যাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে আলাদা করে দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক টোল আদায় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
টাঙ্গাইলের জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। যাতে করে ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়। এ ছাড়াও যমুনা সেতুর উপর রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি।
তিনি আরও জানান, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পশু বহনকারী ট্রাক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালক দায়িত্ব পালন করছে।
আরটিভি/এমএম




