ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামের টেরিবাজারে হেনস্থার শিকার নারী ক্রেতারা; উদাসীন ব্যবসায়ী সমিতি

দেবাশীষ মল্লিক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবিতে প্রদর্শিত টেরিবাজারের দোকানটিতে নারী হেনস্থা ও হয়রানির ঘটনা ঘটে গত ১৯ মে। ভুক্তভোগী নারী নিজের মুঠোফোনে দোকানের ছবিটি সংগ্রহ করে রাখেন।

‘এগুলো এখানে সাধারণ ঘটনা, কোনো ব্যাপার না’ — সম্প্রতি চট্টগ্রামের টেরিবাজার বাণিজ্যকেন্দ্রে এক দোকান কর্মচারীর হাতে হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হওয়া একজন নারী ক্রেতা তার ভাইয়ের মাধ্যমে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে অভিযোগপত্র জমা দিতে গেলে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা এমন মন্তব্য করেন এবং তারা অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে ভুক্তভোগী নারীর সেই ভাইকে ফিরিয়ে দেন।

নগরের কেন্দ্রস্থলে আন্দরকিল্লা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত বাণিজ্যিক কেন্দ্র টেরিবাজারে রয়েছে আড়াই হাজারটিরও বেশি দোকান এবং বিরাশিটি শপিংমল। শুধু খুচরা ক্রেতাই নন, এখানে ভিড় জমান জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরাও। অনেকের মতে, রাজধানী ঢাকার ইসলামপুরের পর এটিই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং নির্ভরযোগ্য পাইকারি কাপড় ক্রয়-বিক্রয়ের কেন্দ্র।

কিন্তু এখানেই কেনাকাটা করতে এসে ক্রেতারা, বিশেষত নারী ক্রেতারা, প্রতিনিয়তই হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হন। বাজারের বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী বা মালিক সুযোগ পেলেই নারী ক্রেতাদের সাথে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে জানা যায়।

গত ১৯ মে, জমজমাট ঈদের বাজারের সময়েই একজন নারী ক্রেতা টেরিবাজারের এমনই এক দোকানের কর্মচারীর হাতে চরম হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হন। পরবর্তীতে পরিচয় লুকিয়ে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফেসবুকে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি গ্রুপে পোস্ট লিখলে সেখানে দেখা যায়, গ্রুপের অনেক সদস্য মন্তব্যের ঘরে এসে নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিব্রতকর ঘটনা এবং বাজারের বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী ও মালিক দ্বারা হেনস্থা, হয়রানি, এমনকি যৌন হয়রানির বিষয়ও তুলে ধরেন।

পোস্টের সূত্র ধরে ওই ভুক্তভোগী নারী ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেন এবং এই প্রতিবেদককে বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, তার নাম পূজা চৌধুরী (২৬); তিনি চট্টগ্রাম নগরেরই একজন বাসিন্দা এবং পেশায় ডাক অধিদপ্তরের একজন সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি আরটিভিকে জানান, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে টেরিবাজারের ‘আজমীর শপিং সেন্টার’ নামক একটি দোকানে গজ কাপড় কিনতে যাই। দোকানের কর্মচারীর সাথে মূল্য নির্ধারণ হওয়ার পর কতটুকু কাপড় লাগবে তা নিশ্চিত না হয়েই তিনি কাপড় কেটে ফেলেন এবং আমাকে কেটে ফেলা পুরো কাপড়টি কিনতে বাধ্য করার জন্য জোর করতে থাকেন। জোরাজুরির একপর্যায়ে তিনি প্রথমে খারাপ আচরণ এবং পরে তুই-তুকারি শুরু করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে ওই কর্মচারী আমাকে মারতে উদ্যত হন, এমনকি জুতা নিয়েও তেড়ে আসেন। আশেপাশের সাধারণ ক্রেতা এবং কয়েকটি দোকানের অন্যান্য বিক্রেতা-কর্মচারী এসে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি থামেননি; বরং অকথ্য-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি আমার গায়ে হাত দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, অবস্থা বেগতিক দেখে সাহায্য চেয়ে ‘৯৯৯’-এ ফোন দিতে মুঠোফোন বের করলে ওই কর্মচারী আমার ফোন ও সাথে থাকা ব্যাগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সম্ভ্রমহানির হুমকি দেন। এ সময় পাশের এক দোকানি আমাকে সহযোগিতা করেন এবং নিজের দোকানের সামনে এসে দাঁড়াতে বলেন, যেন আজমীর শপিং সেন্টারের ওই কর্মচারী পুনরায় কোনো অসভ্যতা করতে না পারে।

সাহায্য চেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পেয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারী ক্রেতা পূজা চৌধুরী জানান, তারা আমাকে নিকটস্থ থানা অর্থাৎ চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলিয়ে দেন। কিন্তু অফিসার আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করতে না এসে বলেন, আমি যেন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করি, তখন তারা ব্যবস্থা নেবেন। ওই রকম একটা পরিস্থিতিতে আমি একা কীভাবে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করব? সাধারণত বড় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী সমিতি বা মালিক সমিতির ফোন নম্বর দেওয়া থাকে কিংবা অন্তত একটি কার্যালয় বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তাৎক্ষণিক কারও সাহায্য পাওয়ার মতো কোনো নম্বর কোথাও ছিল না আর ওই পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে কার্যালয় খুঁজে বেড়ানোরও কোনো সুযোগ ছিল না।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, কোনো একভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আমি বিষয়টি আমার পরিবারের সদস্য, একাধিক বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানাই। তখনই জানতে পারি যে, এই বাজারে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। নারী ক্রেতাদের সাথে দোকানের কর্মচারী, এমনকি মালিকেরাও দুর্ব্যবহার করেন, হুমকি-ধামকি দেন এবং হেনস্থা করেন। অনেক পুরুষ ক্রেতাও সেখানে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। আমি সরকারি চাকরির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত একজন নাগরিক, অন্যদের তুলনায় আইন সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানি। আমাকেই যদি এভাবে হেনস্থা ও অপদস্থ হতে হয়, তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের সাথে কী আচরণ করা হয় তা ভাবাই যায় না! পরে আমি বিষয়টি নারীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন একটি স্থানীয় সংগঠনকে জানাই। তারা আমাকে থানায় একটি জিডি করার পরামর্শ দেন এবং ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিতে বলেন। সংগঠনটি আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে, বিষয়টি মীমাংসা করতে ঈদের ছুটির পর সমিতির কার্যালয়ে তারা আমার সাথে যাবেন এবং দোষী কর্মচারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরবর্তীতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব উদ্যোগ গ্রহণে বাধ্য করবেন।

কোতোয়ালী থানা ও সমিতির কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দুবার নিজেই থানায় জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলাম। সেখানে কর্তব্যরত একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে, জিডি করার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে সমিতির কার্যালয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) আমার এক ভাইকে দিয়ে অভিযোগপত্রটি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা সেটি গ্রহণ তো করলেনই না, উল্টো আমার ভাইকে বললেন—‘এগুলো এখানে সাধারণ ঘটনা, কোনো ব্যাপার না’। দেশে যেখানে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মহল সোচ্চার, ইভটিজিং ও ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণা চলছে, সেখানে টেরিবাজারের দায়িত্বশীলদের কাছে নারী ক্রেতার হেনস্থা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা! আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি, যেন পরবর্তীতে আর কোনো নারী ক্রেতা এভাবে হেনস্থা বা হয়রানির শিকার না হন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত নারী হেনস্থার ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ জানতে বুধবার (২৭ মে) চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, পূজা চৌধুরী জিডি করে থাকলে তার রেকর্ড থানায় থাকবে এবং একটি কপি তাকেও দেওয়া হবে। তবে শুধু অভিযোগ করলে কোনো স্থায়ী রেকর্ড থাকে না। জিডি বা অভিযোগ যা-ই করা হোক না কেন, পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।

তবে এই মুহূর্তে রেকর্ড না দেখে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয় জানিয়ে এবং ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে কর্তব্যরত ওই কর্মকর্তা প্রতিবেদককে ফোন কেটে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

টেরিবাজার বাণিজ্যকেন্দ্রটি ‘টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতি’র নিয়ন্ত্রণাধীন, তাই এই বিষয়ে সমিতির কার্যালয়ের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কথা হয় সভাপতি আব্দুল মান্নানের সাথে। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমি ওই নারী ক্রেতার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। এখন ঈদের ছুটি চলে এসেছে। ছুটির পর মার্কেট খুললে আমি উনাকে অভিযোগপত্রসহ ডাকব।

গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করা হবে জানালে তিনি বলেন, অবশ্যই বিষয়টি গণমাধ্যমে আসতে পারে। আমাদের পক্ষ থেকে এতে কোনো সমস্যা নেই।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রেখে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘কমিশন’ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন উমেদার রূপণ দাশ। ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ দাবি করেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তারা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি। অভিযান পরিচালনাকারী ফাঁদ টিমের নেতৃত্বে থাকা দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বলেন, পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য তারা দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এক ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রথমে হটলাইন ১০৬ এবং পরে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলে হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম জানিয়েছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থ নেওয়ার সময়ই দুদকের দল কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এদিকে উমেদার রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে রূপণ দাশ আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা তার বাসায় গিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, দলিলটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পরে মামলা করা হয়। বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান জবানবন্দি দেননি। অপর দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আরটিভি/এসআর
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্র থেকে তাকে পাঠানো এক নোটিশে এ বার্তা দেওয়া হয়। এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আরও বলা হয়, অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের ওই কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। আরটিভি/এসআর
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেলেন মিষ্টি কেড়ে খাওয়া সেই কিশোর
ক্ষুধার তাড়নায় খাবারের প্যাকেট ভেবে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্যাকেট কেড়ে নিয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। পরে সেটি খুলে দেখেন, ভাত নয়-ভেতরে রয়েছে মিষ্টি। প্রচণ্ড ক্ষুধায় সেখান থেকে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলি) আদালতে শুনানি শেষে বিচারক সঞ্জয় পাল তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন।  এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে ১০০ টাকা সহায়তা করেন। সেই অর্থ থেকেই জরিমানার ৫০ টাকা পরিশোধ করে মুক্ত হন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর রেলস্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। নড়াইলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে তিনি যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন।  একপর্যায়ে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেও তার কাছে খাবার কেনার টাকা ছিল না। এ সময় খাবারের প্যাকেট মনে করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্যাকেট কেড়ে নেন তিনি। পরে প্যাকেট খুলে মিষ্টি দেখতে পান এবং কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার জিআরও এসআই হেলালুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর নুর মোহাম্মদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর
আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেলেন মিষ্টি কেড়ে খাওয়া সেই কিশোর
মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নারী নিহত, একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে আসার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নারী নিহত, একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
৫ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে জিআই তার ব্যবহার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়নে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাছানহাট সংযোগ সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার দিয়ে ঢালায়ের অভিযোগ উঠেছে।
৫ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে জিআই তার ব্যবহার
আরও পড়ুন
‘প্রীতিলতা দিবস’ উপলক্ষে চবিতে স্মরণসভা
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে উত্তাল চুয়েট, শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো