ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি হবি মিয়া পাইক ওরফে শ্রাবণের মরদেহ আড়াই মাস পর দেশে পৌঁছেছে। পরে নিজ এলাকায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হবি মিয়ার মরদেহ পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান তিনি।
নিহত হবি মিয়া মুন্সীগঞ্জ সদরের বকুলতলা গ্রামের মোহাম্মদ নলি মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে ২০১৬ সালে তিনি ইরাকে পাড়ি জমান। দেশে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ দেশে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর আসে। পরে নানা জটিলতায় মরদেহ সে দেশে আটকে থাকলে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইরাকে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে লাশ দেশে নিয়ে আসে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জ সদরের আধারা ইউনিয়নের বকুলতলা স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জানাজায় স্বজন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এ সময় প্রবাসী সন্তানের কফিন জড়িয়ে মায়ের আহাজারিতে এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
হবি মিয়া পাইকের স্ত্রী খাদিজা আক্তার নিতু বলেন, আমার স্বামী মৃত্যুর কিছুদিন আগে বাড়ির পাশে জমি কিনেছিল। কথা ছিল এখানে বাড়ি করবে, দুই মেয়ে ও আমাকে নিয়ে একসাথে থাকবে। কিন্তু তার আগেই সে চলে গেল।
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তাই সরকারের কাছে দাবি এখানে যেন আমাদের একটা ঘর করে দেয়। তাহলে অন্তত বাকী জীবন একটা আশ্রয় পাব। নাহলে কোথাও উঠতেও পারব না।
হবি মিয়ার বাবা নলি মিয়া পাইক বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল ছেলের লাশটা যাতে যে কোন মূল্য দেশে নিয়ে আসে। তারা অনেক চেষ্টা করে লাশ নিয়ে এসেছে এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমার নাতনী ও ছেলে বউদের পুনর্বাসনে যাতে সরকার ব্যবস্থা নেয় সেই দাবি করছি।
আরটিভি/এমএম




