নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুর স্থান পরিদর্শন করেছেন চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে ওই এলাকা পরিদর্শন করে চীন সরকারের মালিকানাধীন চীনা রোড ও ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
নারায়ণগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং পানি পরিশোধন প্লান্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নগর ভবনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।
পরে চীনের প্রতিনিধি দলটি নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুর নির্ধারিত স্থান ও ভিত্তিপ্রস্তর পরিদর্শন করেন।
চীনের প্রতিনিধি দল সেতুর প্রস্তাবিত স্থান ও ভিত্তিপ্রস্তর পরিদর্শন শেষে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ.দা.) মো. আজগর হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ও বহুল প্রত্যাশিত এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে নারায়ণগঞ্জ শহর ও পূর্ব পাড়ে বন্দর উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/এমএ




