কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় দিনে-দুপুরে দাহ্য পদার্থ বা চেতনানাশক স্প্রে নিক্ষেপ করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে রামু উপজেলার দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ের শিকার মো. রফিক (৪৫) টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় ভাড়ায় চালিত যাত্রীবাহী গাড়ির চালক। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রফিক জানান, ছেলের জন্য একটি ইজিবাইক কেনার উদ্দেশ্যে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে তার ছোট ভাই মো. জাহিদের যাত্রীবাহী গাড়িতে করে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে রওনা দেন। পথে দরিয়ানগর এলাকায় পৌঁছালে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা আটজন দুর্বৃত্ত তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।
তার অভিযোগ, মোটরসাইকেল থেকে নেমে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে গাড়ি থেকে নামতে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তার বাম উরুতে বোতলজাত তরল দাহ্য পদার্থ স্প্রে করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া শুরু হলে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রফিক আরও দাবি করেন, দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা পদার্থের কারণে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং পরিহিত প্যান্টের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর গাড়ির চালক ও অন্যান্য যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গাড়িচালক মো. জাহিদ বলেন, ভাতিজার জন্য ইজিবাইক কিনতে আমরা কক্সবাজারে যাচ্ছিলাম। দরিয়ানগর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গাড়ি থামিয়ে আমার ভাইকে লক্ষ্য করে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে ভুক্তভোগী রফিক ও তার ভাই জাহিদ ঘটনার পেছনে কক্সবাজার সদরের বড়ছড়া এলাকার মো. ইমন নামের এক যুবকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ইমনের সঙ্গে রফিকের পূর্ব পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং রফিক যে নগদ টাকা নিয়ে ইজিবাইক কিনতে কক্সবাজার যাচ্ছেন, সে তথ্য ইমন জানতেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমনও একই দিন যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথে কয়েকবার দুই গাড়ি একে অপরকে অতিক্রম করে। পরে দরিয়ানগর এলাকায় পৌঁছানোর পরই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। বিষয়টি ছিনতাই নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আহত ব্যক্তির শরীরে অ্যাসিড নাকি চেতনানাশক স্প্রে জাতীয় কোনো পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এসকে



