কবরের পাশের ফুলগাছ চুরি, সারা গ্রামে গাছ লাগিয়ে যুবকের অভিনব প্রতিবাদ

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৬ পিএম


কবরের পাশের ফুলগাছ চুরি, সারা গ্রামে গাছ লাগিয়ে যুবকের অভিনব প্রতিবাদ
ছবি: আরটিভি

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। সেই ঘটনায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে উল্টো পুরো গ্রামকে ফুলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এক যুবক। চোরকে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরি বন্ধ করতে ৫০০টি বাড়ির সামনে ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী— এই তিনটি ফুলগাছ রোপণ করেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যা ও যত্নে গাছগুলো বড় হতে থাকে। এর মধ্যে একটি গাছে কাঙ্ক্ষিত ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, তিনটি গাছই চুরি হয়ে গেছে।

হঠাৎ এমন ঘটনায় কষ্ট পেলেও চোরের প্রতি ক্ষোভ না দেখিয়ে ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখেন তিনি। শামীমের ভাষায়, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসে। আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, একটি বা দুটি নয়, পুরো এলাকাজুড়েই ফুলগাছ রোপণ করবেন।

এরপর নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ শুরু করেন। প্রতিটি বাড়ির সামনে রোপণ করা হয় চুরি হয়ে যাওয়া সেই তিন প্রজাতির গাছ— হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী।

আরও পড়ুন

দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণ করতে দেখা যায় শামীমকে। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন না, বরং স্থানীয়দেরও গাছগুলোর পরিচর্যা করার অনুরোধ করছেন তিনি।

এ উদ্যোগে বেশ খুশি এলাকাবাসী। তাদের মতে, কয়েক মাস পর এসব গাছে ফুল ফুটলে পুরো গ্রাম সুগন্ধে ভরে উঠবে। পাশাপাশি গ্রামের সৌন্দর্যও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ফুলগাছ চুরির ঘটনার এমন ইতিবাচক জবাব খুব কমই দেখা যায়। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে পুরো গ্রামের জন্য সুন্দর একটি উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।

হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়ত ফুল ভালোবাসে। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হয়ত চোরের বাড়িতেও আমার রোপণ করা গাছ পৌঁছে গেছে। সে যদি বিষয়টি দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তিনি আরও বলেন, আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়। আমি চাই গ্রামটি ফুলে-ফলে ভরে উঠুক। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, মানুষের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়বে এবং গ্রাম হবে আরও সুন্দর।

হাওলাদার শামীম আহমেদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন এলাকায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নেতিবাচক ঘটনার ইতিবাচক সমাধানের এমন উদাহরণ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission