অভিমান করে আত্মগোপনে ছিলেন জবেদ আলী। প্রায় চার যুগ পর ফিরলেন বাড়িতে। এত বছর পর আপনজনকে দেখে জড়িয়ে কাঁদলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে বাধ সাধলেন স্ত্রী। এতটা বছর স্ত্রী-সন্তান ফেলে থাকা মানুষটির প্রতি রাগ-অভিমানে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্ত্রী। স্বামী হিসেবে মেনে নিতেও আপত্তি জানালেন। ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী গ্রামে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
জানা গেছে, বামুন্দী গ্রামের বাসিন্দা জবেদ আলী (৬৬) ১৯৮৮ সালে স্ত্রী ও চার বছরের সন্তান রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। ৩৮ বছরের মধ্যে তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। কেউ বলেছেন মৃত, আবার কেউ বলেছেন দ্বিতীয় বিয়ে করে হয়তো কোথাও সংসারী হয়েছেন।
তবে নানা মুনির নানা মতের মধ্যেই কেটে গেছে প্রায় চার যুগ সময়। এর মধ্যে ছেলে বড় হয়েছে। বিয়ে করে সেও সংসার পেতেছে। মায়ের সাথেই স্ত্রী সন্তান নিয়ে সময় পার করছেন ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।
জানা যায়, ১ জুন বিকেলে চুল-দাড়ি পাকা এক বৃদ্ধ পায়ে হেঁটে পৌছায় নিজের বাড়িতে। নিজেকে বাবা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। ছেলে জাহাঙ্গীর বাবাকে চিনতে পেরে বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। পরিবার-প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এই বাড়িতে।
এতদিন পরে একজন মানুষের কামব্যাক তাইতো খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে বিভিন্ন গ্রামে। ছুটে আসেন অনেক উৎসুক মানুষ। তবে রাগ-অভিমানে স্বামীর সঙ্গে কথা বলেননি স্ত্রী রুশিয়া খাতুন। এক নজর দেখে শুধুই চোখের পানি ফেলেন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন একা জীবন টানা এই সংগ্রামী নারী। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়েও করেননি। কিন্তু স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে আত্মগোপনে ছিলেন। এ কারণে তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না রুশিয়া খাতুন।
স্ত্রী রুশিয়া খাতুন জানান, অভাবের সাথে যুদ্ধ করে তিনি ছেলেকে বড় করেছেন। সন্তান ফেলে স্বামী পালিয়ে গেলেও তিনি যেতে পারেননি। এতটা বছর পর ফিরে আসায় স্বামীকে তিনি মেনে নিতে পারছেন না। যে স্বামী সন্তান আর স্ত্রীকে ফেলে লুকিয়ে থাকতে পারে তার সাথে সংসার করা যায় না।
তাছাড়া স্বামীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ করে রুশিয়া খাতুন বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম আমার স্বামী নতুন সংসার করছেন। ওই পক্ষের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে।
তবে বৃদ্ধ জবেদ আলী জানান, রাগ-অভিযানে বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম। বারবার ফেরার চেষ্টা করেও তিনি ফিরতে পারেননি। কারণ হিসেবে আর্থিক সংকটের কথা জানালেন এই বৃদ্ধ।
তিনি জানান, মানিকগঞ্জে জমি কিনে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার শুরু করি। আট বছর আগে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মারা গেছেন। সেই সংসারে আমার ১১ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
টাকার অভাবে বাড়ি ফিরতে না পারলেও জমি কিনে বাড়ি করে দ্বিতীয় সংসার করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
তবে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। স্ত্রীর সাথে বনি-বনা করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এসএস



