ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৯৯৯-এ ফোন করে মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা-বাবা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার বাবা-মা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক সেবনের দায়ে ওই যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের ছেলে আনারুল ইসলামকে (২৬) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন তার পরিবার।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত আনারুলকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা বহুবার চেষ্টা করেছেন। মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে গেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতেন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট করতেন। বাধা দিলে হুমকি ও নির্যাতন চালাতেন।

তাদের অভিযোগ, ঈদের দিন থেকে আনারুলের আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে বাইরে মাদক সেবন করে বাড়িতে ফিরে তিনি তার মা ও ভাইকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করলে নিরুপায় হয়ে তার বাবা-মা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিবারের সদস্যরা আনারুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরিবার জানায়, এর আগে দুই দফা তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা শেষে ফিরে এসে তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

পরে উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসাইন-এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আনারুলের কক্ষ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিয়মিত মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন।

এর প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সন্তানকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া কোনো বাবা-মায়ের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। বহু চেষ্টা করেও ছেলেকে মাদকের ছোবল থেকে ফিরিয়ে আনতে না পেরে তারা বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি, একসময় আনারুল মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি এসএসসি পাস করলেও মাদকাসক্তির কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ সমাজ ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, আনারুল ইসলামের কক্ষ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
হাসপাতালে যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছেন মা, ঠিক সেই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে জমানো দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে সটকে পড়েছেন তার বড় ছেলে।  সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকায় ঘটা এই অমানবিক ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অর্থের অভাবে রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মায়ের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে মা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রির ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই ছেলে— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে নিজের বিপদ বা চিকিৎসার প্রয়োজনে এই অর্থ কাজে লাগবে। সপ্তাহখানেক আগে তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করলে ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার জরুরি খরচের জন্য দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা থেকে যৌথ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। তবে টাকা তোলার পরপরই বড় ভাই আলাউদ্দিন কৌশলে ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে গা-ঢাকা দেন। পরবর্তীতে স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে আলাউদ্দিন সাফ জানিয়ে দেন— মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে তিনি চিকিৎসার এই টাকা দেবেন না। ঘটনাটি রোববারের হলেও বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সালাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। ছোট ছেলে সালাউদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বড় ভাই বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু মা রাজি হননি। এখন মায়ের জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে তিনি প্রতারণা করে চিকিৎসার টাকা আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আমরা এখন চরম দিশেহারা। ঘটনাটি জানতে পেরে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে ছেলে চম্পট দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এমন পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। করুণানগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম আফসোস করে বলেন, মাতা-পিতার আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে সন্তান মাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে টাকা নিয়ে পালাতে পারে, আল্লাহ যেন এমন কুলাঙ্গার সন্তান আর কারো ঘরে না দেন। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। জানা গেছে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করুণানগর এলাকার মৃত হানিফ বেপারীর বড় ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুটি বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে সটকে পড়া এবং শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসএস
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
নড়াইলে ৮ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। 
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ার পর ১৭ কিশোর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ভেতর ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারী দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকলেও তাকে উদ্ধারের বদলে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন আশপাশের অনেকে।
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার নাম ব্লাড ব্যাংক। উপজেলায় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক বা আধুনিক রক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের স্বজনদের ছুটতে হয় দিশেহারা হয়ে। সময়মতো রক্ত না পেয়ে অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
আরও পড়ুন
রাঙ্গামাটিতে পুলিশের অভিযানে আটক ৮
চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৮৭ জন গ্রেপ্তার
টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত, পুলিশের গুলিতে নারী নিহত
নাটোরে পুলিশের ওপর হামলা, ২৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা