টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে গোপালপুর উপজেলার গোলপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল একটি দোকানে বাকির টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে নিহত হন ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা কালাম তালুকদার (৬৫)। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ১০ থেকে ১১টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গরু-বাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালি সামগ্রী লুট করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাত ৮টার দিকে গোপালপুরের নলিন বাজারে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, বেছে বেছে কয়েকটি দোকানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, আগের সংঘর্ষের প্রতিশোধ হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎপুরা গ্রামের কয়েকশ মানুষ লাঠি ও রামদা নিয়ে গোলপেচা গ্রামে হামলা চালায়। হামলায় নারী ও শিশুসহ অনেকেই আহত হন। এর মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান।
তিনি বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরটিভি/টিআর




