কালজানির ভাঙনে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের

আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ১১:৪০ এএম


কালজানির ভাঙনে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের শত শত মানুষ এখন কালজানি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে, কেউ আবার আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে।

কালজানি নদীর অব্যাহত ভাঙনে শিলখুরি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত চার দিনে দুই গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ধলডাঙ্গার ৮০টি এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার ৩৫টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ গণমাধ্যমকে বলেন, ইতোমধ্যে যে পরিমাণ ভাঙন হয়েছে, তার বাইরে যাতে আর কোনো বসতভিটা নদীগর্ভে না যায়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোববার থেকে ভাঙন প্রতিরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদীভাঙন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন নদীবিধৌত দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তাই নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

শিলখুরি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন বলেন, গত এক বছরে কালজানি নদী বাম তীর থেকে গড়ে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। চলতি বছরেই প্রায় এক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও এলাকার বউবাজারও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের তোজাম্মেল হক, ময়েন উদ্দিন, সাহেজ উদ্দিন ও মনির হোসেন বলেন, প্রতিদিন নদী তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা কেড়ে নিচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission