ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কালজানির ভাঙনে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের শত শত মানুষ এখন কালজানি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে, কেউ আবার আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে।

কালজানি নদীর অব্যাহত ভাঙনে শিলখুরি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত চার দিনে দুই গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ধলডাঙ্গার ৮০টি এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার ৩৫টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ গণমাধ্যমকে বলেন, ইতোমধ্যে যে পরিমাণ ভাঙন হয়েছে, তার বাইরে যাতে আর কোনো বসতভিটা নদীগর্ভে না যায়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোববার থেকে ভাঙন প্রতিরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদীভাঙন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন নদীবিধৌত দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তাই নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

শিলখুরি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন বলেন, গত এক বছরে কালজানি নদী বাম তীর থেকে গড়ে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। চলতি বছরেই প্রায় এক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও এলাকার বউবাজারও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের তোজাম্মেল হক, ময়েন উদ্দিন, সাহেজ উদ্দিন ও মনির হোসেন বলেন, প্রতিদিন নদী তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা কেড়ে নিচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, প্রতিবাদে ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পেশাদারভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ।
স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, প্রতিবাদে ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী
নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০
কলেজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০
বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুলাভাই
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী (২০) বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 
বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুলাভাই
চুরি ঠেকাতে সড়কে ১২ বাঁশকল, পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গরু চুরি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ১২টি পয়েন্টে বাঁশকল স্থাপন করে রাতের পাহারা জোরদার করা হয়েছে। বাঁশকল হলো সড়কের ওপর বাঁশের তৈরি অস্থায়ী প্রতিবন্ধক, যা প্রয়োজন অনুযায়ী তুলে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়। এসব পয়েন্টে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ও ধামাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত বাঁশকল পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।  এ সময় তিনি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলে পাহারা ও যানবাহন তল্লাশি কার্যক্রমের খোঁজ নেন। রায়গঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসব বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে। রাতের বেলায় সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এ পাহারা ব্যবস্থায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।  দায়িত্ব পালনকারীদের রাতের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে থানা পুলিশ। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চেকিংয়ের সময় সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে অযথা ভোগান্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।  এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিরাজগঞ্জ মো. হাফিজুর রহমান, রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান, রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামানসহ জেলা ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গরু চুরি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে এধরণের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।  আরটিভি/এসআর
চুরি ঠেকাতে সড়কে ১২ বাঁশকল, পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন দিলেন যুবক, ঘটনা কী
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে মারধরের পর ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়া (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগুনে ঘরের সব আসবাব, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে গেছে। নির্যাতনের শিকার রুবিনা বেগম বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি না হয়, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো সে আমাদের মেরে ফেলবে। অভিযুক্ত ফুল মিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে বকাঝকা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ঘরে তারও অংশ রয়েছে এবং রাগের মাথায় আগুন দিয়েছেন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এসআর
মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন দিলেন যুবক, ঘটনা কী
আরও পড়ুন
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
নড়াইলে ৩ নদীর ভাঙনে বিলীন জনপদ, পরিদর্শনে এমপির আশ্বাস
‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণ, ক্যানটিন বয় গ্রেপ্তার 
দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের