হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০৪:৪১ পিএম


হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের
মান্দা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: আরটিভি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাটোইর গ্রামে তৈয়বুর রহমান (৫৫) হত্যাকাণ্ডের জের ধরে মামলার আসামিদের বসতবাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন একদল বিক্ষুব্ধ মুসল্লি। এতে প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকজনের বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে এ ঘটনা ঘটে। 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই ৫০ থেকে ৬০ জন মুসল্লি একতাবদ্ধ হয়ে তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৈয়ব আলী এবং তার ছয় ছেলে সাজেদুর রহমান, কামরান হোসেন, স্বাধীন, সুমন, সুজাত ও সজিব এবং সহযোগী হামিদুল ইসলাম আকুর বসতবাড়িতে একযোগে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বাড়িগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এছাড়া ইমরান হোসেন ও আমিনুর রহমানের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

​খবর পেয়ে মান্দা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন

​এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হত্যা মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার (৮ জুন) পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে বাচ্চাদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মোমিন ও প্রতিবেশী ইমরান হোসেনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে ওইদিন সকালে ইমরান ও তার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আব্দুল মোমিনের বাড়িতে হামলা করে। এতে ৪ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন দ্বিতীয় দফায় আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান এগিয়ে এলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

​হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই প্রধান আসামি সৈয়ব আলী, কামরান, স্বাধীন ও সুরভী বেগমকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ​হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান চলছে। তবে জুমার নামাজের পর হঠাৎ করে এভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে আসামিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া কোনোভাবেই সঠিক হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission