নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বর্বর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলার মুখে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ফলে পুরুষশূন্য এসব পরিবারে এখন চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
হামলায় গুরুতর আহত অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘরে। ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষগুলো এখন গৃহপালিত পশু ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য জাবেদ মোল্যা ও রুহুল ফারাজীর সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল্লাহ ফারাজী ও সাইফুল ফারাজী পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাবেদ ও রুহুল ফারাজীর নেতৃত্বে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে।
গত ১৩ জুন রুহুল ফারাজী প্রতিপক্ষ সাইফুলের বসতভিটার অংশ দাবি করে জোরপূর্বক দখল করতে গেলে সাইফুল পক্ষ বাধা দেয়। এরই জেরে জাবেদ ও রুহুলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাইফুল পক্ষের ওপর আচমকা হামলা চালায়। এতে নারীসহ অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হন। পাল্টা প্রতিরোধে রুহুল পক্ষেরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামলার শিকার বাড়িঘরগুলোর টিনের বেড়া ও চালা কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তছনছ হয়ে গেছে সাজানো-গোছানো সংসার।
ভুক্তভোগী এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওরা আমাদের ঘরে ঢুকে সব কুপায়া শেষ করে দিছে। পুরুষ মানুষগরে মারতে আইছিল, তারা ভয়ে সব গ্রাম ছাইড়া পালাইছে। আমরা জানের ভয়ে রাইতে ঘুমাইতে পারি না।
তবে পাল্টা অভিযোগ করে রুহুল ফারাজীর মেয়ে তানিয়া বলেন, আমার বাবা-চাচারা কোনো অন্যায় করে নাই। সাইফুলরাই উল্টা আমাদের ওপর আগে হামলা করছে, আমাদের লোকগো জখম করছে।
এ ঘটনার পর থেকেই রুহুল-জাবেদ গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে পুরো গ্রামজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা তৎপর আছি এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুল পক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় কালিয়া থানায় মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় ইতোমধ্যেই ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় শান্তি ফেরাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




