নড়াইলের লোহাগড়ায় স্ত্রীকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ওই হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না অভিযুক্ত স্বামীর।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত লিমনকে আটক করা হয়। মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন মল্লিক জানিয়েছেন, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে সুমনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকাতে লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে সুমনাকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান।
লিমন মল্লিক জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতো। বিষয়টি নিয়ে লিমন ও সুমনার মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে করবে না বলে স্বামী লিমনের কাছে ওয়াদা করেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটিকে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভিডিও পোস্ট করা ও পরপুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান ও কথোপকথনের জেরে আবারও লিমন সুমনার মাঝে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখেন।
পুলিশ আরও জানায়, সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিকভাবে সারাদিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেচামেচি করে কান্নাকাটি শুরু করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত হত্যার পর আত্মহত্যা দেখাতেই সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান অজিত কুমার।
আরটিভি/এসএস



